রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সেই বৃদ্ধকে নিজের বেতনের টাকায় নামজারি করে দিলেন সীতাকুণ্ডের এসি ল্যান্ড

জেলা প্রশাসকের সদিচ্ছার প্রতিফলন

প্রকাশিতঃ ২১ ডিসেম্বর ২০২১ | ১:০১ অপরাহ্ন

একুশে প্রতিবেদক :  সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর মৌজার ৮৩ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল মোতালেবকে বিনামূল্যে (সরকারি ফি ব্যতীত) নামজারি করে দিয়েছেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে আব্দুল মোতালেবের হাতে নামজারি খতিয়ান তুলে দেন এসিল্যান্ড।

এর আগে গত ১ ডিসেম্বর খোলা আকাশের নিচে অফিস চলাকালে বৃদ্ধ আব্দুল মোতালেব সহকারী কমিশনার (ভূমি), সীতাকুণ্ডের কাছে গিয়ে জানান, তিনি তার শেষ সম্বলটুকু অর্থের অভাবে নামজারি করতে পারছেন না। তার কোনো কর্ম নেই। দেখাশোনারও কেউ নেই। তাই তিনি নামজারি করে এই জায়গার অর্ধেক বিক্রি করে বাকি জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে চান।

বৃদ্ধের এই আকুতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এসিল্যান্ড আশরাফুল। পরে তিনি নিজ বেতনের টাকায় আব্দুল মোতালেবকে নামজারি করে দিতে সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহ আলমকে নির্দেশ দেন।

সেই অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার সকালে আব্দুল মোতালেব হয়রানি-ভোগান্তি তো নয়ই; এসিল্যান্ডের বেতনের টাকায় নামজারি খতিয়ান হাতে পান। এসময় বার বার আনন্দের কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ আব্দুল মোতালেব।

এ প্রসঙ্গে এসিল্যান্ড আশরাফুল আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ডিসি স্যারের নির্দেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানির চিরাচরিত সংস্কৃতি ভেঙে ফেলতে আমরা বদ্ধপরিকর। মানুষ যাতে সহজে, দ্রুততম সময়ে ভূমিসেবা পায় সেজন্যে আমরা নিরলস কাজ করছি। সেবা পৌঁছে দিচ্ছি মানুষের দোরগোড়ায়। ৮৩ বছর বয়সী মুরুব্বি আব্দুল মোতালেবকে সহযোগিতা করতে পেরে ভালো লাগছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে ‘সীতাকুণ্ডে শিক্ষিকা গৃহবধূর নির্যাতনে শশুর বাড়িছাড়া’ শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) শর্মা রানী সাহা উপস্থিত হয়ে আব্দুল মোতালেবকে নিজের গৃহে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

অভিযোগ, উম্মে সালমা নিপা নামে এক শিক্ষিকার নির্যাতনে শশুড় আব্দুল মোতালেব গৃহহারা হয়েছিলেন।