বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

আইসের পেছনে কারা?

প্রকাশিতঃ Thursday, January 20, 2022, 7:28 am


জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার : মিয়ানমার থেকে সীমান্তপথে দেশে ঢুকেছে ভয়ংকর মাদক ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। এক গ্রাম আইসের দাম ৫ হাজার টাকা হলেও মাদকাসক্ত তরুণ সমাজের কাছে ইয়াবার চেয়ে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এটি। এ কারণে দ্রুত এর বিস্তার বাড়ছে।

বিজিবির টেকনাফ-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, বুধবার ভোরে টেকনাফের নাফ নদীর জালিয়ার দ্বীপ এলাকা থেকে ৪ কেজি ১৭৫ গ্রাম আইস উদ্ধার করেছে বিজিবি। এসব আইসের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এটি এখন পর্যন্ত এ যাবত কালের সবচেয়ে বড় আইসের চালান বলে জানিয়েছেন টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার। চলতি মাসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৮ কেজি আইস জব্দ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, টেকনাফ-উখিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকাভুক্ত ইয়াবা মাফিয়াদের হাত ধরে ইয়াবার পাশাপাশি এখন দেশে ভয়ংকর মাদক আইসের চালান আসছে। এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের পাচারকারী হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বেশি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জড়িত হিসাবে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তাদের কেউ মাদকের গডফাদার হিসাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় এক নাম্বার নাম থাকা সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির আপন ভাই, কেউ আত্মীয় বা তার অনুসারী। এদের অনেকেই স্থানীয় নির্বাচনে এবার টেকনাফ ও উখিয়ায় জনপ্রতিধি নির্বাচিত হয়েছেন।

১০ ও ১১ জানুয়ারি পৃথক অভিযানে টেকনাফ থেকে আড়াই কেজি আইস জব্দ করেছে বিজিবি ও পুলিশ। দুই কেজি ৬৪ গ্রাম আইস জব্দ করলেও বিজিবি কাউকে আটক করতে পারেনি। কিন্তু পুলিশ ৫০০ গ্রাম আইসসহ দুই রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে আটক করে। বিদায়ি বছরের শেষের দিকে ৩ কেজি আইসসহ উখিয়া সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক রোহিঙ্গাকে আটক করে র‌্যাব-১৫।

গত বছর ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুধু টেকনাফের স্থল ও নৌপথের সীমান্ত অতিক্রম করে আনা ৯ কেজি ২২১ গ্রাম আইস জব্দ করে বিজিবি। এছাড়া র‌্যাব, পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গত বছর প্রায় দিগুণ আইসের চালান ধরা পড়ে।

টেকনাফ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সহকারী পরিচালক সিরাজুল মুস্তফা মুকুল জানান, সদ্য বিদায়ি বছরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টেকনাফের বিশেষ জোন বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে দুই কেজি ৮৬৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ করে।

কক্সবাজারে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ‘নোঙ্গর’র নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, সব ধরনের মাদকের চালান জব্দকালে আটকরা বহনকারীই থাকে। এদের বিরুদ্ধে মামলা হয়ে কারাগারে গেলেও মূল মাদক ব্যবসায়ীরা আড়ালে থাকায় নতুন পরিবহণকারী সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মাদক আসা বন্ধ হচ্ছে না।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি ও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে মূল কারবারিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখছে পুলিশ। গত বছর দেশের সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান (প্রায় ১৮ লাখ) কক্সবাজার জেলা পুলিশ জব্দ করেছে। সেই মামলায় মূল মাদক কারবারিদেরই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এখনো মাদক উদ্ধার ও মামলা করা হচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরের লোকজন এগিয়ে না এলে শুধু প্রশাসন একা কখনো মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পুরোপুরি সক্ষম হবে না।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েকটি চালান উদ্ধারের তথ্য পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত পথেই আইস ও ইয়াবা আসছে। এ ভয়ংকর মাদক যাতে কোনোভাবেই দেশে আসতে না পারে সে জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।