শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

আমাদের গল্পগুলো অল্প সময় ঘর পাতালো

| প্রকাশিতঃ ২৪ জানুয়ারী ২০২২ | ৭:১৭ অপরাহ্ন


শান্তনু চৌধুরী : শীতের হিমেল হাওয়া মাঝে মাঝে মনকে আবোল তাবোল করে দেয়। বিষন্ন বাতাসের সাথে সংসার। রোদ আর বারান্দা পেরোয় না। যে চড়ুই কার্নিশে বসতো তাকে আর দেখা যায় না ইদানিং। হয়তো ঘর বদলেছে। নয়নতারা, অপরাজিতা, মধুমালতি দোল খায়। কিন্তু ধুলোর রাজ্যে শ্রী ফোটাতে পারে না। ওই যে বলেছিলাম বিষন্ন বাতাসে সাথে ভর করেছে বালুকণা।

ওটিটি প্লাটফর্ম হইচই-এ মুক্তি পাওয়া বাংলা ছবি ‘একান্নবর্তীর’ গান শুনছিলাম লগ্নজিতার কণ্ঠে। ‘আমাদের গল্পগুলো অল্প সময় ঘর পাতালো, তারপর পথ হারালো…। হারিয়ে ফেলা পথই বারবার খুঁজে নিতে হয়। কিন্তু সময়টাই এমন যে পথে পথিক পথিক নেই সেই পথে বসে থাকতে হয়। তাই পথের দিশা সহজে মেলে না। কিংবা বলতে হয়, পথ মিলিয়ে দেয়ার মতো কোনো পাঞ্জেরি নেই।

তাই মনে পড়ে উৎপল কুমার বসুর কবিতাটি- ‘বন্ধু, তোমার হাতের উপর হাত রাখলেই আমি টের পাই তোমার বাজারে অনেক দেনা, ছেলেটা উচ্ছন্নে গেছে, মেয়ে রাত করে বাড়ি ফেরে, আজ যা–বলার আছে তুমি আমাকেই বলো, স্ত্রীর মুখরতার কথা বলো, সহকর্মীদের শঠতার কথা বলো, রাতে ঘুম হয় না সেই কথা বলো, আর যদি কাঁদতেই হয় তবে এই কাঁধে মাথা রেখে কাঁদো, বন্ধু।’

এসব একান্ত ভাবনা হয়তো চিঠি দিও কলামের সাথে যায় না। এরপরও সময়ের ভাবনাগুলো সময়ের সাথে সাথে প্রকাশ করা ভালো। করোনার কারণে বিশ্বের অনেক কিছুই বদলে গেছে। জীবন বদলেছে সবচেয়ে বেশি। ভবিষ্যৎ জানা নেই বলেই হয়তো মানুষ বেঁচে থাকে আগামীর সুখের আশায়। সেই সুখেই হয়তো ভাসিয়ে নিয়ে যায় অলকানন্দা জলে। আবার হয়তো সুখের লাগি প্রেম করার পরও সুখ মেলে না। গল্পরা পথ হারিয়ে ফেলে। যাই হোক করোনার কথা যেটা বলছিলাম, দেশে এখন স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ কি আশ্চর্য সবকিছুই চলছে আগের মতো। কোনো নির্দেশনা নেই। করোনা ছড়ানোর সব দায় যেন শিক্ষার্থীদের।

কথা হচ্ছে, মহামারি মোকাবিলায় প্রথম ধাক্কাটা কেন বারবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আসছে? ব্যাংক, অফিস-আদালত, গণপরিবহন, পর্যটনকেন্দ্র, বিনোদনকেন্দ্র, সিনেমা হল, শপিং মল সবকিছুই খোলা। এমনকি চলছে বাণিজ্য মেলা। সামনে চলবে বইমেলাও। চলছে ইউপি নির্বাচনের মিছিল–মিটিং। সবখানে হাজার হাজার মানুষের ঢল। যেন কোথাও করোনা নেই। করোনা ঢুকে বসে আছে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ার-টেবিলের নিচে, শিক্ষার্থীদের ব্যাগের ভেতর বা পরীক্ষার খাতার ভেতর!

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের জানালেন, এখন শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটছে। কিন্তু কথা হচ্ছে শিশু বাসায় থাকলেওতো পরিবারের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটতে পারে। কারণ জীবন জীবিকাসহ নানা টানে পরিবারের কেউ না কেউতো বাইরে যাচ্ছে। যাই হোক নীতি নির্ধারকদের ওপর কথা বলাই এখন মুশকিল। এছাড়া শিক্ষাকে ধ্বংস করার পাঁয়তারাতো সেই অতীত থেকেই হয়ে আসছে।

করোনার কারণে নানা বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে এটা ঠিক তবে বাঙালি ‘ল্যাঠাষৌধি’ ছাড়া কোনোকালে কোনো বিধিনিষেধ মেনেছে এমটা শোনা যায়নি। কেউ একজন অবশ্য মজা করে লিখেছেন, এসে গেল করোনার কারণে বিয়ের দাওয়াত দিতে পারিনি বলার দিন! তবে করোনায় বিয়েও কিন্তু থেমে নেই। করোনার কারণে জুম বা গুগল মিটের মতো মিটিং প্ল্যাটফর্মগুলোই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক দূরত্ব মানতে অফিসের মিটিং থেকে শুরু করে ক্লাস– সবই হচ্ছে এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিন্তু তাই বলে বিয়ে? দূর সেকি হয় নাকি বলে অনেকেই মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারেন। সত্যি সত্যিই এক দম্পতি তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানটা গুগল মিটেই সারছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা সন্দীপন সরকার ও অদিতি দাস বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন।

করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে বিয়ের মতো সামাজিক জমায়েতে একশ’র বেশি মানুষের উপস্থিতি নিষিদ্ধ হলেও সন্দীপন-অদিতি তাদের বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছেন ৪৫০ জনকে। বিয়েতে নিমন্ত্রিতরা গুগল মিটে যোগ দেবেন অনুষ্ঠানে। বিয়ের আগের দিন তাদের অনুষ্ঠানের আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। গুগল মিটেই দেখবেন বিয়ের সরাসরি সম্প্রচার। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ বাড়িতে ভূরিভোজ না হলে কী চলে? গুগল মিটে তো বিয়েবাড়ির খাবার খাওয়া যাবে না।

তবে সেই ব্যবস্থাও করে রেখেছেন সন্দীপন-অদিতি। অতিথিদের ঠিকানায় ফুড ডেলিভারির মাধ্যমেই খাবার পৌঁছে দেবেন তারা। ব্যস, বিয়েবাড়ির ষোলোকলা পূর্ণ। তবে বাঙালির বিয়েবাড়ির খোশগল্প আর সাজগোজই যা বাদ থাকবে সন্দীপন-অদিতির বিয়েতে। অবশ্য এভাবে অনলাইনে বিয়ের খবর ভারতে এই প্রথম নয়। তামিলনাড়ুর দিনেশ এস পি ও জনগানন্দিনি রামাস্বামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম রোববার বিয়ে করতে যাচ্ছেন মেটাভার্সে। বিয়ে হয়ে যাবার পর তারা তাদের ল্যাপটপ খুলবেন। তারপর একটি ভার্চুয়াল ভেন্যুতে তারা প্রবেশ করবেন।

হ্যারি পটার প্রেমী এই যুগলের থিম হলো হগওয়ার্টস। এই ভার্চুয়াল থিমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন জায়গা থেকে যুক্ত হবেন তাদের বন্ধু ও অন্যান্য পরিজনরা। নবদম্পতিকে গুগল পে কিংবা ক্রিপ্টো কারেন্সিতে উপহারও দিতে পারবেন তারা।

বিয়ের কথা যখন উঠলো বিয়ে নিয়ে আরেকটি মজার ঘটনা বলি। দু’টি মানুষের হাত হাত রেখে একসঙ্গে কাটানো দাম্পত্য জীবনের প্রত্যেকটা দিন একই ছন্দে চলে না। ভাব আড়ি লেগেই থাকে। তবে অনেকেই মনে করেন, দাম্পত্যের একঘেয়েমি কাটানোর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সঠিকভাবে বিবাহবার্ষিকী উদযাপন। গোটা বছরের অক্সিজেন সংগ্রহের দিনে একান্তে কিছুটা সময় কাটানো দরকার। কারণ, ওই প্রাণবায়ুর জোরেই তো এগিয়ে যাবে সম্পর্ক। তৃতীয় বিবাহবার্ষিকীকে ঠিক এমনই রঙিন করে তুলতে চেয়েছিলেন লন্ডনের এক দম্পতি। নানা পরিকল্পনাকে প্রায় মিথ্যে প্রমাণ করে যা ঘটল, তা যেন ভাবনারও অতীত। লিভারপুলের বাসিন্দা ওই দম্পতি বেজায় ব্যস্ত। সারাদিন সেভাবে কথা বলারও সময় পান না দু’জনে। তাই বিবাহবার্ষিকীতে একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সে কারণে শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি হোটেল বুক করেন। হোটেলে ঢুকে নিজেরাই বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করতে শুরু করেন। খাবার খান। সঙ্গে চলে দেদার মদ্যপান।

বেশ কিছুক্ষণ পর নেশার ঘোরে প্রায় অচৈতন্য হয়ে পড়েন তরুণী। সেই সময় উদ্দাম যৌনতায় মেতে ওঠার চেষ্টা করেন তরুণীর স্বামী। তবে নেশার ঘোরে তাতে সায় দিতে পারছিলেন না তরুণী। নিজেও ঠিক যা চাইছিলেন তা পারছিলেন না। সে কারণে যৌন উত্তেজনাবর্ধক ভায়াগ্রা খেয়ে ফেলেন ওই ব্যক্তি। তারপরই দম্পতি যৌন উত্তেজনায় মেতে ওঠেন। ইতিমধ্যে নিজেকে কিছুটা সামলে নেন তরুণী। তিনিও বিবাহবার্ষিকী উদযাপনে শরীরী খেলায় মেতে ওঠেন দু’জনে। তবে চরম মুহূর্তেই যেন ছেদ পড়ল। যৌনতার মাঝে যৌনাঙ্গে প্রবল ব্যথা অনুভব করেন তরুণ। তড়িঘড়ি দম্পতি যান হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, সঙ্গমকালে গোপনাঙ্গ ভেঙে গিয়েছে তরুণের। আপাতত চিকিৎসাধীন তিনি। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই হতবাক প্রায় সকলেই। তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী স্মরণীয় করে তুলতে গিয়ে যে এমন কাণ্ড ঘটতে পারে, তা বোধহয় আশা করেননি ওই দম্পতিও।

শান্তনু চৌধুরী : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক