রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

বাবার স্বপ্ন পূরণে কাজ করছি : শেখ হাসিনা

| প্রকাশিতঃ ১৮ মে ২০১৭ | ৩:৫৪ অপরাহ্ন

বাসস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছে মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য। আমি এসেছি আপনারা যেন উন্নত জীবনযাপন করতে পারেন সেজন্য কিছু করতে। বাবার স্বপ্ন ও লক্ষ্য ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। আমি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। নেত্রকোণার একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। হাওরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা করে গৃহনির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোণার খালিয়াজুরী কলেজ মাঠে সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী ফসল ঘরে না উঠা পর্যন্ত হাওর অঞ্চলের মানুষের মাঝে ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল, ওএমএসর চাল বিতরণ করা হবে। দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে, খাদ্যের কোন অভাব হবে না। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা হবে। এ দেশের কোন মানুষ না খেয়ে মরা যাবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য মজুদ আছে। কোন মানুষ না খেয়ে মারা যাবে না। হাওর অঞ্চলের বাঁধ নির্মাণ করা হয় মানুষের ফসল রক্ষার জন্য। এই বাঁধ নির্মাণে কেউ যদি কোন অনিয়ম করে থাকলে হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সব বাঁধ নির্মাণে কোন ধরনের অবহেলায় ছাড় দেয়া হবে না।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ওরা ক্ষমতায় থাকলে লুটপাট ও হত্যার রাজনীতি করে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এরা দেশের মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নেত্রকোণা জেলা যুবলীগের সভাপতি স্বপন জোয়ারদারসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে বায়তুল মোকাররমে আগুন জ্বালিয়ে শতশত কুরআন শরিফ পুড়িয়েছে। বগুড়ায় মসজিদে কুরআন পাঠরত অবস্থায় মুসল্লিদের কুপিয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছে। খালেদা জিয়ার নির্দেশে ২৭১ জনকে হত্যা করা হয়েছে । ৩ হাজার ২৫২টি গাড়ি ও ৭০টি সরকারি অফিস পোড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের মডেল। খাদ্য-শিক্ষা সব দিক দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক ড. মো. মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসাইন আকন্দের পরিচালনায় পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্থানীয় এমপি রেবেকা মমিন প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী সকালে হেলিপ্যাডে অবতরণের আগে হেলিকপ্টারে করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি খালিয়াজুরী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২৫০ জন ও নগর ইউনিয়নের বল্লভপুরে ২৫০ মানুষের মাঝে নগদ ১০০০ টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।