শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বাবা-মা’র ডিভোর্স নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ফারাজ করিম চৌধুরী

| প্রকাশিতঃ ১৭ মার্চ ২০২২ | ৬:৫৮ অপরাহ্ন

একুশে প্রতিবেদক : এই প্রথম বাবা-মার ডিভোর্স নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন রাউজান থেকে চারবারের নির্বাচিত সাংসদ, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সন্তান ফারাজ করিম চৌধুরী।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মানবিক কন্যা খ্যাত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রিসিলা নাজনীন ফাতেমার সাথে ‘প্রিসিলা নিউইয়র্ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাবা-মার বিচ্ছেদের ব্যাপারে মুখ খুলেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রিসিলা ফাতেমার জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল প্রচারিত অনুষ্ঠানের শুরুতে ফারাজ করিম চৌধুরীর কাছে পরিবার সম্পর্কে জানতে চান প্রিসিলা।

জবাবে ফারাজ করিম চৌধুরী বলেন, ‘আই ক্যাম ফর্ম অ্যা ব্রোকেন ফ্যামিলি’। তিনি বলেন, আমার বলতে দ্বিধা নেই যে, আমার বাবা-মা’র ডিভোর্স হয়ে গেছে। আমার বয়স যখন ১০ বছর, তখনই বাবা-মার ডিভোর্স হয়। কিন্তু তাদের এই বিচ্ছেদ আমি ও আমার ছোটভাইয়ের (ফারহান করিম চৌধুরী) বেড়ে ওঠা, ভালো থাকার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তারা দুজনই আমাদের সুখী, সুন্দর জীবনের জন্য নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রেখেছেন।

নামকরা আইনজীবী মা-র স্মৃতিচারণ করে ফারাজ করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি তখন খুব ছোট। আমাকে বিছানায় রেখে আমার মা টয়লেটে ঢুকছিলেন। তখনই ভূমিকম্প শুরু হয়। আমাদের চট্টগ্রামের বাড়ির নিচতলা ৭০-৮০ বছরের পুরোনো। ছাদের দিকে এক পলক তাকিয়ে মা উপুড় হয়ে আমাকে এমনভাবে আগলে ধরেন, পরে জানলাম ভূমিকম্পে যদি ছাদ ধসেও পড়ে আমি যেন অক্ষত থাকি। এই হলো আমার মা।’

বাবারও স্মৃতিচারণ করেন ফারাজ করিম। বলেন, ‘আমি কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় একবার প্রথম হয়ে তৎকালীন আইনমন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছিলাম। সেই পুরস্কারটা নিয়ে বাবার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। বাবা আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন ‘ইউ আর দ্য জিনিয়াস’। সেই মুহূর্তটা আমার এখনো মনে আছে।’ -বলেন ফারাজ।

পরিবারের গল্প বলতে গিয়ে দাদা-নানার দিকও আলোকপাত করেন ফারাজ করিম। তিনি বলেন, আমার দাদা একেএম ফজলুল কবির চৌধুরী কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ ডিগ্রি অর্জন করে রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। চট্টগ্রাম চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন। আমার দাদার বাবা ছিলেন খান বাহাদুর আবদুল জব্বার।

‘আর আমার নানা ব্যারিস্টার এ আর ইউসুফ নামকরা লইয়ার ও মন্ত্রী ছিলেন। আমার নানুও একজন শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত নারী। যার আদর, স্নেহ আমার জীবনে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। আমার নানার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমার মা-ও আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত।’ যোগ করেন ফারাজ করিম চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে কিংস কলেজ লন্ডন থেকে আন্ডার গ্রাজুয়েট শেষ করে ২০১৫ সালে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে উচ্চশিক্ষা (মাস্টার্স) অর্জন করে দেশে আসেন ফারাজ করিম চৌধুরী। তখন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বেশ পরিচিতি পান এ তরুণ।

বাইরের দেশ থেকে উচ্চডিগ্রি সম্পন্ন করার পর দেশের বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চপর্যায়ে চাকরির সুযোগ থাকলেও সে পথে পা বাড়াননি ফারাজ। বর্তমানে ক্লিন ইমেজের তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পেলেও নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ফারাজ করিম চৌধুরী ব্যতিক্রমী চিন্তা, আদর্শ ও গণমুখী আনপ্যারালাল কিছু কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয়। বর্তমানে তার ফেসবুক ফলোয়ার ৩৩ লাখেরও বেশি।