বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

‘টাকা ছাড়া ডাক্তার দেখালাম, চশমাও পেলাম’

প্রকাশিতঃ Saturday, May 7, 2022, 10:59 pm


আবছার রাফি পদুয়া (রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম) থেকে ফিরে : নিয়মিত কোরআন পড়তে অভ্যস্ত জাহানারা বেগম (৫০)। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দুই চোখে ঝাপসা দেখছেন তিনি। এ কারণে ঠিকমতো কোরআন পড়তে পারছিলেন না জাহানারা। তাই কিছু টাকা জোগাড় করে একবার চোখের ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। সেই ডাক্তারের দেওয়া চশমাটা এখন নষ্ট। বাড়তে থাকে চোখের সমস্যা। কিন্তু টাকা যোগাড় করতে না পারায় তিনি আর ডাক্তার দেখাতে পারেননি।

আজ শনিবার (৭ এপ্রিল) সেই জাহানারা বেগম পেয়েছেন বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা। জাহানারা বেগমের সমস্যা মনোযোগ সহকারে দেখে-শুনে কিছু ওষুধ আর একটি চশমা দিয়েছেন ডাক্তার। জাহানারা বলেন, ‘আগের ডাক্তারকে টাকা দিতে হলেও এবার টাকা ছাড়া ডাক্তার দেখালাম, চশমাও পেলাম।’ এ সময় জাহানারার চোখেমুখে খুশির আবহ চলে আসে।

শুধু জাহানারা বেগম নয়, অন্তত ২৪০ জন রোগী আজ সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন অফিস প্রাঙ্গণে খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি রোগী অপারেশন’ ক্যাম্পে চোখের চিকিৎসা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ জনকে দেওয়া হয়েছে চশমা। বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ২২ জনকে। অনেক রোগীকে ভালো ডাক্তার আর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে ওষুধ।

আজকের আয়োজনে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. সৌমেন তালুকদার, চক্ষু প্যারামেডিকস অরবিন্দ চৌধুরী, ক্যাম্প কো-অর্ডিনেটর জসিম উদ্দিন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেলিম রেজা।

ক্যাম্পে চোখের চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন স্থানীয় মালেক মাস্টার। দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও ডাক্তারের সিরিয়াল, গ্রাম থেকে শহরে আসা-যাওয়ার মতো বিড়ম্বনার কারণে ডাক্তার দেখাতে পারেননি তিনি। আজ বিনামূল্যে ডাক্তার দেখানোর পর জানতে পারলেন তার চোখে গুরুতর সমস্যা; এক বছর পর অপারেশন করতে হবে। হঠাৎ চোখের এমন সমস্যা ধরা পড়ায় তিনি হতবাক। আক্ষেপ করে মালেক মাস্টার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। শুনেছি, সকাল আটটার ভেতর যেতে হয়। যেতে দেরি হলে ডাক্তারের সিরিয়াল পাওয়া যায় পরের দিন। একদিন শহরে থাকতে হয়; শহর থেকে এত দূরত্বে থাকা পদুয়ার মানুষের পক্ষে কী ওখানে গিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব? পুরুষ হলে একটা কথা, কিন্তু নারী হলে তো বিরাট সমস্যা। আজ বিনামূল্যে ঘরের কাছে ডাক্তারের সু-পরামর্শ পেয়ে মনটা ভরে গেল।’

চোখের চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সেলিম বলেন, ‘৫-৬ বছর আগে থেকে চোখে কম দেখি। এখন পর্যন্ত কোনো ডাক্তারের কাছে যাইনি। এমনি চশমা একটা কিনে চোখে দিয়েছিলাম। এখন সেটা দিয়েও ঝাপসা দেখি। ভেবেছিলাম, কখনো সময়-সুযোগ হলে শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাব। কিন্তু সময়-সুযোগের অভাবে এখনও ডাক্তার দেখানো হয়নি। আজকে বিনামূল্যে ডাক্তার চশমা দিয়েছেন। আগে কাছের জিনিস কম দেখতাম, এখন চশমা পরার পর দেখতে পাচ্ছি।’

এর আগে সকাল ৭টায় ‘বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি রোগী অপারেশন’ ক্যাম্পিংয়ের উদ্বোধন করা হয়। খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়কারী, একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবর্তন নায়ক ক্যাটাগরিতে কৃষি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত মৎস্য ও কৃষি খামারি এরশাদ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে এরশাদ মাহমুদ বলেন, ‘চোখের সমস্যা তো আছেই। তারওপর আমাদের এখানকার মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় জন্মের সময়। জন্মের সময় এখানকার ধাত্রী যারা আছেন তারা ভালোমতো ট্রেনিংপ্রাপ্ত নয় বিধায় প্রসবের সময় অনেক শিশু ও মা মারা যায়। এখানে যারা আছেন সবাই তো হাসপাতালে নিতে পারে না; টাকা-পয়সার স্বল্পতা আছে। আমি খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনের কাছে আশা করবো, আমাদের এখানে গ্রাম্য ধাত্রীদের জন্য একটা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য যাতে জন্মের সময় শিশুর মৃত্যুহার কমে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার সাহেবের এখানে জন্ম, এখানে বেড়ে ওঠা; আশপাশে অনেকজন আছেন, অনেক বিত্তশালী ব্যক্তিরা আছেন, অনেক শিল্পপতি আছেন, আজাদ তালুকদারের এত বেশি টাকা-পয়সা নেই, কিন্তু তার মন আছে, মানুষের জন্য কিছু করার। আজাদ তালুকদারের এসব কার্যক্রম দেখে আমি মনে করি আপনারাও এগিয়ে আসবেন। আজাদ তালুকদারের এসব দেখে আপনাদের কী একটুও লজ্জা লাগে না? এগিয়ে আসুন, আপনাদেরকে মানুষ সাধুবাদ জানাবে।’

সভাপতির বক্তব্যে পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু জাফর বলেন, ‘যার চক্ষু নেই তার কাছে এই পৃথিবী অসাড়-অপূর্ণ, তার কোনো কিছুই ভালো লাগবে না। আমাদের এই মূল্যবান সম্পদের সু-চিকিৎসার জন্য খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনের এই আয়োজনের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

 

তিনি বলেন, ‘মরহুম খায়ের আহমেদ তালুকদার আমার খুব প্রিয় মানুষ ছিলেন। তিনি একজন দেশদরদি, জনগণের সেবক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে যখন তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেছেন তখন আমার জন্মও হয়নি। ওনি যদি সে সময় থেকে চাকরি করতেন তাহলে অনেক উচ্চ পর্যায়ে যেতে পারতেন কিন্তু তিনি সবকিছু ত্যাগ করে দেশ-মানবতার সেবার জন্য কাজ করে গেছেন। ওনাকে চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, ওনি প্রত্যাখান করেছেন। আমি দেখেছি, যতক্ষণ ওনার পকেটে টাকা ছিল ততক্ষণ কোনো মানুষ টাকা খরচ করতে পারেনি। এমন একজন মানুষের নামে খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশন করায় আমি আজাদ তালুকদারকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবকিছু আছে। কিন্তু সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, একজন এমবিবিএস ডাক্তার নেই। আমি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য দুটি রুম করে দেব। আমি এরশাদ সাহেব ও তথ্যমন্ত্রীর প্রিয় মানুষ আজাদ তালুকদারকে অনুরোধ করবো, তারা যেন মন্ত্রী মহোদয়কে বলে এখানে সু-চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি ওবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় কাজ। এটা একটা রিমোট এরিয়া; যেখানে মানুষ স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে সচেতন না। গ্রামের লোকজন সচরাচর স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকে না। দরিদ্রতার কারণে শহরে গিয়ে চিকিৎসা করবে এই সুযোগও তাদের জন্য থাকে না। তাই দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা সচেতনতা তৈরির এই সুন্দর উদ্যোগের জন্য আমি খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউজ্জমান বদি বলেন, ‘মানুষের চিকিৎসার জন্য আজকের এই আয়োজন। গর্বের বিষয় গত কিছুদিন আগে খায়ের-জাহান ফাইন্ডেশনের ব্লাড গ্রুপিং ও কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে আমি এসেছিলাম; রাঙ্গুনিয়ার অজপাড়াগাঁয়ে আত্মমানবতার সেবায় এই ফাউন্ডেশন কাজ করছে, তা অনেক প্রশংসার দাবিদার। আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যে মানুষগুলো বড় ডাক্তার, বড় হাসপাতালে যেতে চায় না, সেই মানুষগুলো এখানে এসেছে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য, আমি মনে করে এটা পদুয়াবাসীর জন্য একটা গর্বের ব্যাপার। আমি আশা রাখবো, এই ফাউন্ডেশন আরও বেশি উদ্যোগ নেবে, আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াবে। এভাবে পদুয়ার বিত্তশালী মানুষরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে পদুয়ার মানুষ আর পেছনে পড়ে থাকবে না, সু-চিকিৎসা পাবে; আর এটাই হচ্ছে আমাদের চাওয়া।’

পদুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম বলেন, ‘যার নামে এই ফাউন্ডেশন করা হয়েছে ওনি এই পদুয়ার অত্যন্ত গর্বিত সন্তান। তিনি শিক্ষা-দীক্ষা, পড়াশোনায়, সমাজসেবায় পদুয়ার মানুষের মধ্যমণি ছিলেন। তিনি ভালো কাজ করে গেছেন বিধায় ওনার ছেলে আজাদ তালুকদার ভালো কাজ করছেন। যদিও তিনি এখন অসুস্থ, আমি বিশ্বাস করি, তিনি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে এই ভালো কাজগুলো পুনরায় চালিয়ে যাবেন। আমরা সব সময় পাশে থাকব।’

পদুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিজন দাশ গুপ্ত বলেন, ‘খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। অসহায়, সাধারণ মানুষদের জন্য এই ফাউন্ডেশন যা করছে, সমাজের প্রত্যেক মানুষের জন্য তা অনুসরণীয়। আমি লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে পদুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে চক্ষু শিবির করেছিলাম। এটা মানুষের জন্য খুবই দরকারি একটা বিষয়।’

পদুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসেন তালুকদার বলেন, ‘আমি আজকে খুবই আনন্দিত যে, যার উপস্থিতিতে আজকের এই চক্ষু চিকিৎসা সেবা হচ্ছে সে আমার অত্যন্ত প্রিয় ছোট ভাই। আমার প্রয়াত বাবার বড় সন্তান হিসেবে যে কাজগুলো আমি করার কথা, সেগুলো আমার ছোট ভাই করছে। দুই মাস আগেই আমার এই ছোট ভাইকে হারিয়ে ফেলতাম তবে কেন যেন আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন; হয়তো আপনাদের দোয়া আর এই সমস্ত ভালো কাজের কারণে আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনের এই মানবিক যাত্রায় আমি সকলের ভালোবাসা-সহযোগিতা কামনা করছি; যাতে আমরা এই অঞ্চলে গরীব-দুঃখী মানুষের জন্য কিছু করতে পারি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘এখানে চিকিৎসার বিষয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি। কারণ এখানে একজন এমবিবিএস ডাক্তার নেই। মানুষ সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমন একটা অবস্থায় এই দুর্গম অঞ্চলে খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের মতো উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এমন মানবিক কাজে খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসা উচিত।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. সেলিম বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবার আয়োজন করায় খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের এলাকার মানুষ তেমন সচেতন নয়, তাই টাকা খরচ করে পদুয়ার বাইরে গিয়ে যারা চক্ষু চিকিৎসা নিতে অপারগ; তাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা যে এখানে দেয়া হয়েছে, এটা অত্যন্ত মহৎ কাজ।’

ক্যাস্পিংয়ে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন খায়ের-জাহান ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী, সাবেক সেনাসদস্য তরুণ সমাজসেবক মো. তারেক সোহেল।

উপস্থিত ছিলেন পদুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবদুল মালেক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা নুরুল আজিম, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদুল ইসলাম,, ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি দিদার হোসেন পাইলট, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন, পদুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জামাল হোসেন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আরফাত হোসেন, পদুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাসিম উদ্দিন, সুখবিলাস শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি প্রথম বিভাগ লীগের সাবেক ক্রিকেটার আতিকুল্লাহ ইয়াসিন, পদুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি সোহেল আজাদ, সঞ্জয় দেব ভুট্রো, শিশু সংগঠক আরিফ উদ্দিন আল মামুন, ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পারাজ বাপ্পু, ২ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. করিম, সাধারণ সম্পাদক রুবেল তালুকদার ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন প্রমুখ।