
ঢাকা : দেশে ফের বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত মাসে সংক্রমণের হার এক শতাংশের নিচে থাকলেও এখন তা দুই শতাংশে উঠে এসেছে। সংক্রমণের হার এভাবে বাড়তে থাকলে হাসপাতালে জায়গা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
শঙ্কা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেভাবে অসতর্ক হয়ে চলছি এভাবে চলতে থাকলে হাসপাতালে রোগী বাড়তে সময় লাগবে না।’
মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনার সংক্রমণের হার গত মাসেও যেখানে এক শতাংশের নিচে ছিল, সেটি বর্তমানে দুই শতাংশে উঠে গেছে। সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, আবারও হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয় আসবে, জায়গা হবে না।’
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। সেখানে তাণ্ডব চালানোর পর ভাইরাসটি বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। সেদিন তিনজনের শরীরে করোনা ধরার বিষয়টি জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এরপর থেকে ভাইরাসটি তাণ্ডব চালায় বাংলাদেশেও। ইতোমধ্যে ভাইরাসটি প্রাণ কেড়েছে ২৯ হাজার ১৩১ জনের।
দীর্ঘ সময় তাণ্ডব চালানো ভাইরাসটির প্রকোপ কয়েক মাস আগে কমে আসে। শনাক্তের হার এক শতাংশের নিচেও নেমে আসে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে আবারও ভাইরাসটির প্রকোপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬২ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু দেশে এখন আবার করোনা বাড়ছে। গত একমাস দেশে সংক্রমণের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, এখন সেটি ২ শতাংশে উঠেছে। প্রতিদিন যেখানে দৈনিক ৩০-৩৫ জন রোগী শনাক্ত হচ্ছিল, এখন সেটি বেড়ে ১৩০-১৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। আশঙ্কা করছি, যদি এ মুহূর্তে পরীক্ষা বাড়ানো হয়, তাহলে সংক্রমণের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে করোনা বেড়েছে, সেখান থেকে সংক্রমিত হয়ে রোগীরা বাংলাদেশেও ঢুকে পড়ছে। আগে আর্টিফিশিয়াল টেস্টের যে বিষয় ছিল, দেশে আসার ৪৮ ঘণ্টা আগে টেস্ট করে সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে হবে। সেটি তো আমরা এখন করছি না। শুধু ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট দেখছি। যদি অন্যান্য দেশে খুব বেশি সংক্রমণ বেড়ে যায় এবং দেশেও বাড়ে, তাহলে আবার আর্টিফিশিয়াল টেস্ট শুরু করব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জন্য একটি ভালো খবর হলো- প্রায় সব হাসপাতালে এখন ২০ জনের বেশি রোগী নেই। কিন্তু আমরা যেভাবে অসতর্ক হয়ে চলাচল করছি, হাসপাতালে রোগী বাড়তেও সময় লাগবে না। আমাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। আপনারা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কাজকর্ম করবেন, এটি আমরা আশা করব।’
যারা এখনো বুস্টার ডোজ নেননি তাদের দ্রুত বুস্টার ডোজ নেওয়ার অনুরোধ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ, বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী উপস্থিত ছিলেন।