রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

বিদেশগামী শ্রমিকদের কলেরা টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা

| প্রকাশিতঃ ২৬ জুন ২০২২ | ৫:২৪ অপরাহ্ন


ঢাকা : ভবিষ্যতে বিদেশগামী শ্রমিকদের কলেরা টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রোববার (২৬ জুন) রাজধানীর মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সাসাকাওয়া মিলনায়তনে কলেরা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কলেরা ও ডায়েরিয়া প্রতিরোধে ঢাকার সংক্রমণপ্রবণ ৫টি এলাকার ২৩ লাখ মানুষকে ওরাল ভ্যাকসিন খাওয়ানো হবে। আমরা এক থেকে সকল বয়সী মানুষকে এই টিকা দেব। আমরা প্রথমবারের মতো দেশে এই ভ্যাকসিন দেব। এর আগে ট্রায়ালে যেসব এলাকায় টিকা দিয়েছি সেখানে কলেরার প্রাদুর্ভাব একদম কমে গেছে।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমাদের শ্রমিকদের কলেরার টিকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আমাদের অনেক শ্রমিকের দেহে কলেরার জীবাণু পাওয়া গেছে। তাই করোনা টিকার মতো ভবিষ্যতে আমরা তাদেরকেও কলেরার টিকা দিয়ে বিদেশে পাঠাব।’

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকার অনেকাংশেই সফল দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংক্রামক রোগগুলো প্রতিরোধে আমরা অনেকাংশেই সফল। একসময় মহামারিত রূপ নেওয়া রোগগুলো এখন শুধুমাত্র সিজনাল রোগ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ে দেখা যায়। এক সময় ডায়েরিয়া-কলেরায় হাজার হাজার মানুষ মারা যেতো। এখন তা হয় না। এর পেছনে সরকার ও আইসিডিডিআরবির গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সারাদেশে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা করেছে। সরকার এসব রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছে। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার থেকে আমরা প্রতিটি জেলা-উপজেলা হাসপাতালে কলেরা-ডায়রিয়া ইউনিট চালুর নির্দেশ দিয়েছি।’

করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘ইদানিং করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। এতে আমরা আতঙ্কিত না হলেও সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। আমরা বেশি বেশি করোনা পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি। আমরা দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া প্রায় শেষ করেছি। আজকের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ নাগরিকের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শেষ হবে। করোনা মোকাবিলায় আমরা জনগণকে বুস্টার ডোজ নেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘দেশের কলেরা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এক সময় কলেরায় সংক্রমণ দেখা দিলে গ্রামের পর গ্রাম খালি হয়ে যেতো। রোগীদের পানি খেতে দেওয়া হতো না। কিন্তু এখন আমরা জানতে পারি তারা আসলে পানিশূন্যতা ও পুষ্টিহীনতায় মারা গেছেন। কিন্তু বর্তমানে সেলাইনসহ নানা আবিষ্কারের ফলে কলেরায় মৃত্যু খুবই কম। দেশে কলেরা মোকাবিলায় আইসিডিডিআরবির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলাসহ নানা গবেষণার মাধ্যমে কলেরাসহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘সব ডায়েরিয়া কলেরা না আবার সবসময় কলেরা মৃত্যু ঘটায় না। একসময় গ্রামের পর গ্রাম কলেরায় উজাড় হয়ে যেতো। এখন সেই অবস্থা নেই। অতীতে যেসব এলাকায় সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল আমরা সেসব এলাকায় কলেরা টিকা দিয়েছি। এবার যেহেতু রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তাই আমরা এসব এলাকায় টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।’

প্রবাসী শ্রমিকদের টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিকদের কলেরা ভ্যাকসিনের দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। আপাতত তাদের কলেরা নেই সনদ প্রদান করে বিদেশে পাঠাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমরা শ্রমিকদের কলেরা ভ্যাকসিন দিয়ে দেশে বাইরে পাঠাব।’

করোনা সংক্রমণের বিষয়ে খুরশীদ আলম বলেন, ‘দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে কিন্তু তা জটিল অবস্থায় যায়নি। এর কারণ করোনা টিকার প্রয়োগ। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তির হার অনেক কম। সাধারণ কিছু লক্ষণ নিয়ে বাসায় অবস্থান করেই আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। তবে সংক্রমণ রোধে আমাদের সতর্ক হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহামিদ আহমেদ, ড. মু. শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও ইনফেকশন ডিজিজ ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. ফেরদৌসী কাদরী প্রমুখ।