শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘কেউ বলে না আমি ভালো মানুষ হতে চাই’

| প্রকাশিতঃ ১৮ জুন ২০১৭ | ৪:০৬ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: ছাত্রজীবনে ‘জীবনের লক্ষ্য’ নিয়ে বলতে গিয়ে কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ব্যারিস্টার নানা কিছু বললেও ‘ভালো মানুষ’ হওয়ার কথা কেউ বলেন না; এ নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছে নারী নেত্রী এডভোকেট রেহানা বেগম রানুর কন্ঠে।

রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর মুসলিম হলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে আসা রানু বলেন, ‘আমার আগের একজন বক্তা বলে গেছেন, কাউকে যদি জীবনের উদ্দেশ্যে সম্পর্কে বলতে বলা হয়, কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার এরকম নানা কিছু বলে। কেউ রাজনীতিবিদ হবে এটা বলে না। আমি একটু ভিন্ন সুরে বলতে চাই, জীবনের লক্ষ্য হিসেবে কেউ বলে না আমি ভালো মানুষ হতে চাই।’

চট্টগ্রাম সিটির সাবেক কাউন্সিলর রেহানা বেগম রানু বলেন, স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামে এরকম অনেক সংবর্ধনা দেখেছি। সংবর্ধিতরা এখন ক্ষমতাধর হয়েছেন। দায়িত্বশীল পর্যায়ে গেছেন। আজকের বাংলাদেশে তাদের ভূমিকা কী? তারাও তো আপনাদের মতো সংবর্ধিত হয়েই এই অবস্থানে গিয়েছেন। অতীতে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষস্থানে গিয়েছিল।’

নতুন প্রজন্মকে নিয়ে প্রচন্ড আশাবাদি রেহানা বেগম রানু বলেন, ‘আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ একদিন দুর্নীতিমুক্ত হবে, আজকে যারা সংবর্ধিত হচ্ছে সেই ছাত্র-ছাত্রীদের ছোঁয়ায়।’’

শিক্ষার্থীদের প্রতি তিনি বলেন, ‘একজন কবি তার প্রেমিকার প্রেমে পড়ে দুই লাইন লিখেছেন- ঐ মেয়েটির কাছে, সন্ধ্যা তারা আছে। আমি সেটা ভিন্নভাবে আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আজকের এই ছাত্রছাত্রীদের কাছে বাংলাদেশের সন্ধ্যা তারা আছে। বাংলাদেশের দিক নির্দেশনা আছে। তারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিশ্বের দরবারে।’

অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু বলেন, ‘আজকে মুখে আমরা তালা দিয়ে রেখেছি। কারও সাথে অন্যায় হলে আমরা প্রতিবাদ করি না। সেটা কিন্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়। যে প্রকৃত শিক্ষিত, স্বশিক্ষায় শিক্ষিত, সে প্রত্যেক অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সরকার যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ড. হাছান মাহমুদকে আমরা দেখছি মুখপাত্র হিসেবে দুঃসাহসী ভূমিকা রেখে চলেছেন। যার কারণে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যখন ভালো কাজ হয় তখন ষড়যন্ত্র তো হবেই। সেটা মাথায় নিয়ে আমরা নির্ভয়ে কাজ করে যাব।’

কৃতি শিক্ষার্থীদের প্রতি রেহানা বেগম রানু বলেন, ‘শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যে মানবিকগুণ সম্পন্ন হওয়া। দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত হওয়া। জীবন-জীবিকার জন্য প্রস্তুত হওয়া। বাংলাদেশের ক্ষমতা কাঠামোতে আগামীতে নেতৃত্ব দেবেন আপনারা। আপনাদের কলমের খোঁচায় বাংলাদেশ আলোকিত হবে। আপনাদের হাতে, হৃদয়ে সে আলোর প্রদীপ শিখা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

মেধাবী তরুণ-তরুণীদের নিয়ে রেহানা বেগম রানুর আশা, ‘লাখো শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে আপনারা এমনভাবে নেতৃত্ব দেবেন, দেশাত্ববোধ নিয়ে এমনভাবে কাজ করবেন, যাতে আজকে যারা ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা যাওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে; তারা কেউ কাজের জন্য আর বিদেশে যাবে না। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, আপনাদের নেতৃত্বে উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ। অন্য দেশের মানুষ বাংলাদেশের ভিসার জন্য ফাইট করবে। ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসবে কাজ করার জন্য।’

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি, দেশে শিক্ষায় গুণগত মান অর্জন হয়েছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির ক্ষমতায় আসার পর। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সে স্বপ্ন কিছুটা হলেও বাস্তবায়িত হয়েছে। মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করেই প্রতিনিয়তই কাজ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনা। সেই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে প্রতিনিয়ত অতন্দ্র প্রহরীর মত সহযোগিতা করছেন আজকের প্রধান অতিথি ড. হাছান মাহমুদ।

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চট্টগ্রাম মহানগরের আয়োজনে এই কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাফর আলী প্রমুখ। সমাপনী বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি সাজ্জাত হোসেন।