বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১

একদিনের খাতির ও মন্ত্রীর অনুরোধ…

প্রকাশিতঃ ৭ অক্টোবর ২০১৫ | ৬:১৩ অপরাহ্ন

:: আজাদ তালুকদার ::

okaসড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমাকে চিনেন বলেও মনে হয় না। কিন্তু গত তিন বছরে চট্টগ্রামে যেখানেই তিনি এসেছেন, প্রোগ্রাম করেছেন ছুটে গেছি তার নিউজ কভারেজের জন্য। কারণ তিনি যে জায়গায় আছেন, ‘যেমনতর’ কথা বলেন তাতে করে যে কোনো মুহূর্তে একটি বড় ‘শিরোনাম’ হয়ে যেতে পারেন, হয়েছেনও। তাই বড় কোনো ঘটনা না থাকলে চট্টগ্রাম এলে তাঁকে অনুসরণ করি, তাঁর নিউজ কাভার করি। বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশ্ন করি।

সেদিন কক্সবাজারের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সেরে ঢাকায় ফিরছেন তিনি। সড়কপথে পটিয়া অতিক্রম করার পর হঠাৎ তাঁর ইচ্ছে হলো কর্ণফুলী সেতু এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। অনেকের মতো আমাকেও ফোন দিলেন তাঁর ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার সৈকত।

গিয়ে শুনি, সেতু সংলগ্ন সড়ক-জনপথের একটি অফিসে সাংবাদিকদের জন্য অপেক্ষা করছেন মন্ত্রী। বাইরে কয়েকজন নবীন রিপোর্টার, জনা তিনেক ক্যামেরাম্যানের পায়চারি। কিছু লোক আমাকে নিয়ে গেলেন সরাসরি মন্ত্রীর কক্ষে। মন্ত্রীর সামনে অনেকগুলো ফলমুল আর খাবারের সমারোহ। মন্ত্রী পাশের চেয়ারে বসতে বললেন আমাকে। জোর করে কিছু ফ্রুটও খাওয়ালেন। জানতে চাইলেন, কোন্ কোন্ টেলিভিশন এসেছে। বললাম, ৩-৪টি চ্যানেল হবে হয়তো। বাকিরা আসেনি কেন! বললাম, জঙ্গি বিষয়ক র‌্যাব-এর একটি প্রেসব্রিফিংয়ে বাকি সব টেলিভিশন। ‘আর কাজ নাই’ বলে একটু উষ্মা প্রকাশ করে মন্ত্রী জানতে চাইলেন, অন্য টেলিভিশনের কাছে বক্তব্যের ‘ক্লিপ’ পাঠাতে পারবো কি না। জানালাম চেষ্টা করতে পারি।

তাহলে আর দেরি নয়, চলুন ব্রিফটা করেই ফেলি- বলেই মন্ত্রী আমাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। দাঁড়িয়ে আরও কিছু আলাপচারিতা, স্বপ্ন-পরিকল্পনার কথা জানানোর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন তিনি। বললেন অনেক কথা। এরপর উঠে যাচ্ছিলেন গাড়িতে। এসময় আবার দাঁড় করালাম। বললাম, এবার কোনো ইন্টারভিউ নয়, একটি আবেদন করতে চাই। কর্ণফুলী সেতুর উত্তরপাড়ে অপরিকল্পিত গোলচত্বরের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, মূল্যবান প্রাণহানি হচ্ছে। এ নিয়ে এখনই কিছু করুন প্লিজ! সঙ্গে থাকা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতেই ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেন তারা। মন্ত্রী নির্দেশ দিলেন দুদিনের মধ্যেই গোলচত্বরের ত্রুটি সারানোর কাজ শুরু করতে।

পতাকা উড়িয়ে চলে গেলেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর আতিথ্য গ্রহণ ও ক্ষণিকের খাতিরের সুখানুভূতি গায়ে মেখে ফিরছিলাম। কিছুদূর আসার পর দেখি আমার কাছে মন্ত্রীর ফোন। ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। ব্যাপার কী! ঘোর কাটতেই মন্ত্রীর কণ্ঠ- বললেন, নিউজের টপলাইনটা যেন এশিয়ান হাইওয়ে নিয়ে করি। অফিসে গিয়ে দেখি- পায়রা বন্দর এবং মহিউদ্দিন চৌধুরী ইস্যুতে বলা কথাগুলোই আসলে টপলাইন হওয়ার যোগ্য। এবং শেষে তাই হলো। এত খাতির, এত যতœ-আত্তির পরও রাখা গেলো না মন্ত্রীর কথা!

পেশাদার, বস্তুনিষ্ঠ এবং সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক সাংবাদিকতা যে মন্ত্রী-এমপির কথামতো হয় না, সে কথা বোঝাই কী করে…!