শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

আবাসনবঞ্চিত সাংবাদিকদের আবাসনের অঙ্গীকার নতুন কমিটির

| প্রকাশিতঃ ২২ জুন ২০১৭ | ২:২৮ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম : আবাসনবঞ্চিত সাংবাদিকদের জন্যে দ্রুত আবাসনের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক কোপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি নেতৃবৃন্দ। এজন্যে নবীন-প্রবীণ সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। পাশাপাশি সোসাইটির সম্পত্তি নিয়ে যে কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকান্ড পরিচালনা, অনিয়ম-দুনীর্তির কঠোর অবস্থানের কথার ঘোষণা দেয়া হয়।
ঊুধবার দুুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে নব নির্বাচিত কমিটির সাথে সংগঠনর তৃণমুল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিয় সভায় নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন।

শেরশাহ সাংবাদিক আবাসন এলাকায় ব্যবস্থপনা কমিটির সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করে বক্তারা আবাসন সমস্যার সমাধান, শেরশাহ আবাসিক এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, হাউজিং সোসাইটি এলাকায় সব ধরনের বেআইনি কর্মকান্ড বন্ধের পাশাপাশি ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানানো হয়।
এসময় তারা সোসাইটি এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার নেয়া পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কল্পলোক আবাসিক এলাকায় নির্মাধীন বহুতল ভবন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানান।

সোসাইটির চেয়ারম্যান স্বপন মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় সোসাইটির সার্বিক কার্যক্রম এবং ব্যবস্থানা কমিটিার পক্ষ থেকে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন সেক্রেটারী হাসান ফেরদৌস। তিনি জানান, শেরশাহ সাংবাদিক হাউজিং ্এলাকাকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে আসা হবে। কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হবে, সোসাইটির প্রকল্প অফিস স্থাপন করা হবে। সোসাইটির কার্যক্রম দেখা শুনার জন্যে কোষাধ্যক্ষ নুর উদ্দিন আহমেদে নেতৃত্বে একটি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপ কমিটির সদস্যরা হলেন এডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী, বাবুল চৌধুরী, দিদারুল আলম, নুরুল করিম বাচ্চু।

একইভাবে কল্পলোক আবাসিক এলাকায় নির্মাণধীন বহুতল ভবন দ্রুত নির্মাণের জন্যে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৬৭ জনকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। এসময় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাজ-কর্মে অসন্তোষ প্রকাশ করে বহুতল ভবন নির্মাণ কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম জহুরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উপ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। কমিটির অনান্য সদস্যরা হলেন সিইউজের সাবেক সভাপতি এজাজ ইউসুফী, নাজিমুদ্দিন শ্যামল, হামিদ উল্লাহ, মিন্টু চৌধুরীসহ ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রস্তাবিত একজন প্রকৌশলী।

এছাড়া শেরশাহ আবাসিক এলাকায় নির্মিত মসজিদের সার্বিক কার্যক্রম, ঋণপ্রদান এবং আর্থিক কর্মকান্ড খতিয়ে দেখতে সোসাইটির সদস্য এ জেড এম হায়দারকে প্রধান করে আরো একটি উপকমিটি গঠন করার কথা জানান। কমিটির অনান্য সদস্যরা হলেন সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান অঞ্জন কুমার সেন, পরিচালক মহসীন কাজী, শাহরিয়ার হাসান, সৈয়দ গোলাম নবী।

সভায় জানানো হয়, আবাসনবঞ্চিত সদস্যদের আবাসন সংকট মেটাতে নতুন নতুন জমির খোঁজ নেয়া হচ্ছে। সোসাইটির বেদখল হয়ে যাওয়া জমি পুনুরুদ্ধার, সরকারের কাছে পাওয়া আরো ১ একর ৫৬ শতক জমি উদ্ধারের কাজ চলছে বলেও জানানো হয়।
এছাড়া শেরশাহ সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটি সংক্রান্ত দায়ের করা বিভিন্ন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। সভায় বক্তারা জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ হাওে জেলা প্রশাসকের কোষাগারে জামা দেয়ার বিধান বাতিলেরও দাবি জানানো জানান। এসময় অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাাইটির ভাইস চেয়ারম্যান সমীর কান্তি বড়ুয়া, কোষাধ্যক্ষ নুর উদ্দিন আহমদ, ব্যবস্থাপনা সদস্য মহসীন কাজী, মঞ্জুরুল আলম।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সদস্য সাবের আহমেদ আসগরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, মোস্তাক আহমদ, এজাজ ইউসুফী, আলী আব্বাস, এ কে এম জহিরুল ইসলাম, স্বপন দত্ত, মহসীন চৌধুরী, যীশু রায় চৌধুরী, শাহরিয়ার হাসান, রোকসারুল ইসলাম, বিশ্বজিত বড়ুয়া প্রমুখ।