আজাদ তালুকদার : মালয়েশিয়ান তরুণ-তরুণী মুন্তামিন (২২) আর নূর সোহাইলা (২১)। একজন কাজ করেন হোটেলে, পরেরজন ক্লথশপে। কাছাকাছি, পাশাপাশি কাজ করতে গিয়ে গেল বছর পরিচয় তাদের। তারপর প্রেম।
তাদের প্রেমের কাছে ক্রমশ পৃথিবীর সব তুচ্ছ, বিবর্ণ হয়ে উঠে। প্রেমই যেন স্বর্গ, প্রেমই যেন প্রার্থনা। সেই প্রেমময় যোগ-সন্ধিক্ষণের প্রথম ঈদ তাদের। সেই ঈদে তারা ‘কাছে’ থাকবেন না, গন্ধে-ছন্দে মেতে উঠবেন না, তা ভাবাই যায় না।
মালয়েশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল সাবা। সেখানেই মুন্তামিন-সোহাইলার সব স্বজন-শুভার্থী। কিন্তু দুজনের কেউ এবার সেখানে ঈদ করতে যাননি। স্বজনদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঈদের দিন তারা খুব কাছাকাছি থাকবেন, রঙিন হবেন। এজন্য তারা বেছে নিয়েছেন কুয়ালালামপুরে ক্যানানগাপুই এলাকা।
অপার সুন্দরের যাদুকরী ছোঁয়া, রোমাঞ্চকর এক ক্যানভাস পুরো কুয়ালালামপুর জুড়ে। তারা বোঝেন, জানেন- প্রেম মানেই কুয়ালালামপুর, ঈদ মানেই কুয়ালালামপুর! সেই কুয়ালালামপুরের আকাশে ঈদের চাঁদটা এবার মুন্তামিন-সোহাইলার জন্য অন্য এক আবেদন, অনুভূতিতে হাজির হয়েছে।
চাঁদ উঠার সাথে সাথে মেহেদিসাজটা করে নিয়েছেন সোহাইলা। ঈদের সকালে মুন্তামিনের প্রিয় মেহেদিসাজেই বেরিয়েছেন তিনি। পার্ক, রেস্টুরেন্ট, অভিজাত শপিং মলে একান্তে, হাত ধরাধরি করে ঈদের পুরোদিন কাটিয়েছেন তারা। বুকিত বিনতাং-এর অভিজাত শপিংমল প্যাভিলিয়নের কাছেই ঈদের দিন সন্ধ্যায় চোখে পড়ে এই প্রেমিক যুগলের পাগলপারা হওয়ার মুহূর্ত।
আসসালামু আলাইকুম- বলতেই হাত বাড়িয়ে দেন মুন্তামিন। ঈদ কেমন কাটলো, কী সম্পর্ক তাদের- জানতে চাইলে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে উপরের কথাগুলো বলছিলেন মুন্তামিন।
মাঝে মাঝে যোগ করেন সোহাইলা। বলেন, বছরের একটা মাত্র দিন। এই দিনে প্রিয়জনের কাছে থাকা, পাশে থাকা সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি, শ্রেষ্ঠ উপহার।
[গতবছর ঈদে মালয়েশিয়ার এই কপোত-কপোতিকে নিয়ে আজাদ তালুকদারের লেখাটি পুনর্মুদ্রণ করা হলো]