বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

আরাকান আর্মির নতুন ঘোষণায় আরও কঠিন হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

প্রকাশিতঃ ৬ অক্টোবর ২০২২ | ৮:৪২ পূর্বাহ্ন


জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার : বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এমনিতে আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন রাজ্যের স্বাধীনতা দাবি করা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির সাথে তুমুল লড়াই চলছে গত তিনমাস ধরে।

সম্প্রতি আরকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরোটাই তাদের দখলে উল্লেখ করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে হলে মিয়ানমারের সরকার নয় (তাদের) আরকান আর্মির সাথে আলোচনা করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

এর ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আরাকান আর্মির নতুন ঘোষণায় উভয় সংকটে পড়তে যাচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। যার ফলাফল ভোগ করতে হবে মানবিক কারণে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশকে।

রোহিঙ্গা নেতা হামিদ হোসেন বলেন, ‘মিয়ানমার যেমন রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করেনি তেমনি আরকান আর্মিও সহজে গ্রহণ করবে না। এতে রোহিঙ্গা সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী ও কঠিন হয়ে পড়বে। যার ফল ভোগ করতে হবে বাংলাদেশকে।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের শেষ হবে এমন বলাটা খুব কঠিন। অনুমান করা যায়, দিন দিন পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। যার ফলভোগ করতে হবে বাংলাদেশকে।’ আরকান আর্মির ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের পাশাপাশি আরকান আর্মি বাংলাদেশকে ফাঁদে ফেলে এর সুবিধা আদায় করতে চায়। এ কারণে তারা হয়তো প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনার কথা বলছে।’

অন্যদিকে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের ভিতরে-বাইরে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র অর্ধশতাধিক গ্রুপের দাপটে পরিস্থিতি ক্রমেই অশান্ত হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যেই একের পর এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে উঠছে শিবিরের অভ্যন্তরে। মিয়ানমারের জান্তা সরকারও গোপনে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ সৃষ্টিতে ইন্ধন দিচ্ছে বলে উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনী।

রোহিঙ্গা শিবিরে শুধু রাতে নয়, দিনের বেলায়ও চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। শিবিরগুলোতে পরস্পরবিরোধী দুটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শিবিরগুলোর সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খুনাখুনি, অপহরণ, গুম, লুটপাটসহ নানা জঘন্য অপরাধজনক ঘটনা লেগেই রয়েছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতেও উখিয়ার ১৮ নং ক্যাম্পে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত এপিবিএন পুলিশ ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপরে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করেছে। এতে এক রোহিঙ্গা শিশু নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক রোহিঙ্গা নারী। এ ছাড়াও গত পাঁচ মাসেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২০ টির মত খুনের ঘটনা ঘটেছে৷ যার অধিকাংশ খুনের শিকার হয়েছেন ক্যাম্পভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতা (মাঝি) ও স্বেচ্ছায় পাহারারত স্বেচ্ছাসেবক৷ গত ২০১৭ সালের পর থেকে ক্যাম্পে এ পর্যন্ত খুনের ঘটনা ঘটেছে ১২০টির বেশি।

নিরাপত্তা-ঝুঁকিতে স্থানীয়রা

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটি মহাসচিব এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পের ভিতরে বাইরে অসংখ্য সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে উঠেছে। তারা মাদক ব্যবসা অপহরণ ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধের করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি এসব সশস্ত্র গ্রুপের টার্গেটে পরিণত হয়েছে স্থানীয়রা। রোহিঙ্গারা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলবেঁধে বাড়ি ঘেরাও করে স্থানীয়দের তুলে নিয়ে মারধর করছে।অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে। এতে করে দিনদিন স্থানীয়দের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। সামনে হয়তো ক্যাম্পের আশেপাশে বসবাস করা কঠিন হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, এসব রোহিঙ্গাদের নিরস্ত্র করতে প্রয়োজন সেনাবাহিনীর নিয়মিত অভিযান অথবা ক্যাম্পের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া। এ ছাড়াও মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাদে চলাচল বন্ধ করা গেলে অপরাধ কিছুটা কমে আসবে বলে মনে করেন গফুর উদ্দিন চৌধুরী।

হামিদ হোসেনসহ একাধিক রোহিঙ্গা নেতা জানান, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধের মুখে ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সশস্ত্র গ্রুপ আরসা। মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের জন্য আরসাকে দায়ী করা হয়। হত্যাকেণ্ডের পর ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আলোচিত নবী হোসেন ও মাস্টার মুন্না গ্রুপের কাছে। এখন আরসা আবারও ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে করে ক্যাম্পে প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সামনে আরও বড় ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা নেতাদের ধারণা।

অর্ধশতাধিক সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য কারা

গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা নেতাদের তথ্যমতে, ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে অর্ধশতাধিক ছোট বড় সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে উঠেছে। প্রত্যেক গ্রুপে ৩০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত সদস্য রয়েছেন। সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পগুলো হয়ে ওঠে অপরাধের অভয়ারণ্য। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও খুনাখুনিতে জড়িয়ে পড়ে রোহিঙ্গারা।

ক্যাম্পে অধিক পরিচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে রয়েছে মাস্টার মুন্না গ্রুপ, আলোচিত নবী হোসেন গ্রুপ, মৌলভী ইউসুফ গ্রুপ, রকি বাহিনী, শুক্কুর বাহিনী, আব্দুল হাকিম বাহিনী, সাদ্দাম গ্রুপ, জাকির বাহিনী, পুতিয়া গ্রুপ, সালমান শাহ গ্রুপ, গিয়াস বাহিনী, মৌলবী আনাস গ্রুপ, কেফায়েত, জাবু গ্রুপ, আবু শমা গ্রুপ, লেড়াইয়া গ্রুপ, খালেদ গ্রুপ।

ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা ও আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব গ্রুপের কিছু সদস্যের নামও পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মো. আব্দুল্লাহ ওরফে দাদা ভাই, বুলু, সুলতান, নবী হোসেন, সফিক, রফিক, মুর্তজা, হামিদুল্লাহ, আবদুস শুকুর, শরীফ হোসেন, মো. রহমান, সবেদ উল্লাহ, আব্দুল্লাহ, ফয়সাল, মো. সোলাম, হামিদ হোসেন, মুহিবুর রহমান, দিলদার, আবু সাইদ, তাহের, ফারুক, মুক্কুস, জুবায়ের, মুস্তফা, আব্দুল্লাহ আইদি, হাসন শরীফ, আব্দুল জলিল, হাফেজ উল্লাহ, আরমান খান, আইয়ুব, আমির হোসেন, নুর ইসলাম, আলী আকবর, কামাল, জাইবু রহমান, নাজিমুদ্দিন, সোনা উল্লাহ ও আরাফাত।

অভিযোগ আছে, নবী হোসেন, মাস্টার মুন্না গ্রুপসহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিক্তিক বেশিরভাগ সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের যোগাযোগ রয়েছে। ক্যাম্প অশান্ত করার জন্য সন্ত্রাসী গ্রুপকে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ফ্রি দিচ্ছে মিয়ানমার সরকার। মূলত বিশ্বের দরবারে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করতে চায় মিয়ানমার।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১২ ধরনের অপরাধে মোট দুই হাজার ৪৩৮টি মামলা হয়েছে৷ এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা পাঁচ হাজার ২২৬ জন৷ এই পাঁচ বছরে অস্ত্র উদ্ধার মামলা ১৮৫টি, মাদক উদ্ধার মামলা এক হাজার ৬৩৬টি, ধর্ষণ মামলা ৮৮টি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বা আদায়ের চেষ্টার মামলা হয়েছে ৩৯টি৷ পাঁচ বছরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ১১০টি৷ হত্যা মামলা হয়েছে ১০০টি৷ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে ছয়টি৷ যদিও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে ১২০টির বেশি হত্যাকেণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়াও, অস্ত্র, মাদক, ধর্ষণ, অপহরণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন, ডাকাতি বা ডাকাতির প্রস্তুতি, মানবপাচারসহ ১২ ধরনের অপরাধে রোহিঙ্গাদের নামে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত আগস্ট পর্যন্ত মাত্র এক বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১২ ধরনের অপরাধে মামলা হয়েছে এক হাজার ১৪০টি৷ এই সময়ে অস্ত্র উদ্ধার ৯৮টি, মাদক উদ্ধার ৮৭৪টি, ধর্ষণ ২৩টি ও হত্যা মামলা হয়েছে ৩০টি।

ক্যাম্পের চলমান সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মনে হয় মিয়ানমার সরকারই রোহিঙ্গাদের কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে উসকে দিয়ে ও সহযোগিতা করে ক্যাম্পে খুনাখুনি বা সন্ত্রাসবাদ করছে। কারণ তারা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চায় রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এবং মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে করে স্থানীয়রা ধীরে ধীরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসবাদ থেকে চিরতরে মুক্তির একমাত্র সমাধান হচ্ছে প্রত্যাবাসন। তবে এই মুহূর্তে দ্রুত প্রত্যাবাসন খুব দুরূহ ব্যাপার।’ এ জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করার তাগিদ দেন তিনি।

প্রত্যাবাসন আরও কঠিন হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘সরকার চায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক এবং সুন্দরভাবে শেষ হোক। এ জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরা রোহিঙ্গাদের প্রস্তুত করাসহ ক্যাম্পের আইন-শৃংঙ্খলার বিষয়টি দেখছি।’

স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পের ভেতরে এপিবিএনের তিনটি ইউনিটের সাথে সমন্বয় করে আমরা ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো করতে কাজ করছি।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে এম আবদুল মোমেন বলেন, ‘কে কি বলছে তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের এ দেশ থেকে ত্রুত বিদায় করা, প্রত্যবাসন করা। এ জন্য বাংলাদেশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিশ্ব নেতাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সম্প্রতি জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যবাসনের জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন। আমরা আশাবাদী।’

রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১৬ এপিবিএন এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) হাসান বারী নুর বলেন, ‘ক্যাম্পে যারা অস্ত্রবাজি, খুনাখুনি, মাদকের কারবার ও বিশৃংখলা করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের প্রতিনিয়ত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

কক্সবাজার পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও ক্যাম্পের বাইরে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে নির্মূল করার জন্য কাজ করছে পুলিশ ও আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো। সন্ত্রাসীদের চিহৃিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সামনে চলমান অভিযান আরও বেশি জোরালো হবে। স্থানীয়রা যারা এসব সন্ত্রাসীদের পৃষ্টপোষকতা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’