রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

বিএসসি, আফছারুল, ছালাম, লতিফ দলীয় কর্মসূচিতে আসেন না কেন?

| প্রকাশিতঃ ১ জুলাই ২০১৭ | ৭:৫১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সংসদ সদস্য আফছারুল আমিন ও এম এ লতিফ এবং মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুচ ছালাম দলীয় কর্মসূচিতে আসেন না কেন সেই প্রশ্ন উঠেছে দলের একটি অনুষ্ঠানে।

শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জহুর আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সভায় এ প্রশ্ন তুলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নঈমউদ্দিন চৌধুরী।

একই অনুষ্ঠানে দলের দায়িত্বশীল নেতারা বছরের পর বছর দলীয় কমসুচিতে অনুপস্থিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে নগরের ছয় এমপিকে পরগাছা বলেছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

নঈম উদ্দিন চোধুরী বলেন, নূরুল ইসলাম বিএসসি সাহেব মন্ত্রী হয়েছেন, তিনি নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি দলের কর্মসূচিতে আসেন না। আফছারুল আমিন সাহেব সাবেক মন্ত্রী, এখন এমপি। নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অথচ তিনিও আসেন না। এম এ লতিফ দুইবার এমপি হয়েছেন, তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য, তিনি আসেন না। দিদারুল আলম আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে এমপি হয়েছেন। তাকে দলের কোন কর্মসূচিতে কখনও দেখিনি। সিডিএর চেয়ারম্যান ছালাম সাহেব দলের কোষাধ্যক্ষ; আসেন না কেন?

নঈম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, উনারা একাধারে সরকারের সক্রিয় অংশ এবং দলের দায়িত্বশীল পদ অলংকৃত করে আছেন। অথচ আজ দলের একজন ত্যাগী নেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ছাড়া সকলেই অনুপস্থিত। উনাদের তো উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল এবং দায়িত্বও পড়ে।

নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, মহানগরীতে যে ছয়টি আসন আছে, একজন এমপিও দলের তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা নন। তারা পরগাছা। তারা শুধু নিজেরটা প্রচার করে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার করে না। তৃণমূলকে জাগাতে হলে পরগাছাদের বিদায় করে সত্যিকারের ত্যাগী এবং আওয়ামী লীগের অন্তপ্রাণ নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

একই সভায় দলীয় নেতাদের উপস্থিতি কম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

তিনি বলেন, সাংগঠনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও অনেকেই কর্মসূচিতে আসছেন না। এসব নেতাদের বিগত সময়েও অনেকবার বলার পরও দলীয় কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহণ নেই। যেসব নেতা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের তালিকা করা হচ্ছে। এই তালিকা আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাব। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেন সেই সিদ্ধান্ত মেনে আমরা কাজ করবো।

আ জ ম নাছির বলেন, আগামী নির্বাচনে দলের হয়ে যে কেউ মনোনয়ন চাইতে পারেন। যিনি মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের সবাইকে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। যারা কাজ করবেন না তারা এখনই আওয়ামী লীগ থেকে সরে যেতে পারেন।

তিনি বলেন, মিটিং-মিছিল,মাঠে-ঘাটে আমরা রোদে পুড়ে,বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করব। পুলিশের পিটুনি খাব। আলোচনা-সমালোচনা মাথা পেতে নেব। আর আপনারা পদ নিয়ে শুধু দলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন-তা আর কতদিন চলবে। আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রামের ছয়টি আসন কেন্দ্রকে উপহার দেয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ আজ সময়ের দাবী। সে লক্ষ্যে এখন থেকে আমাদেরকে সকল ধরণের সংকীর্ণতা পরিহার করে মাঠে নামতে হবে।

এর আগে সকালে দামপাড়ায় জহুর আহমদ চৌধুরীর কবরে পুষ্পস্তবক দেয়া হয়। অসুস্থ থাকায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সভায় আসেননি। সভায় নঈমউদ্দিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ ও এম এ রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর প্রমুখ।