মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮

সমবেদনা-নাটক : জুতা মেরে গরুদান!

প্রকাশিতঃ রবিবার, জুলাই ২, ২০১৭, ২:৩২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসকদের সঙ্গে ‘অশোভন আচরণ’ করে মুচলেকায় ছাড়া পাওয়া রাউজানের উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুলকে ‘সমবেদনা’ জানিয়েছেন চিকিৎসক নেতারা।

শনিবার মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের উপস্তিতিতে তার দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সমবেদনা জানানোর এই তথ্য জানানো হয়েছে; এ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। বিষয়টিকে ‘জুতা মেরে গরুদান’ বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

২৫ জুন ঘটনার পর পর ‘শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করে রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল বন্দি, ছি: ছি: ছি:’- এমন মন্তব্য করে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী। অবশ্য একদিন পরই সেই পোস্ট সরিয়ে নেন তিনি।

এছাড়া নারী চিকিৎসকের সাথে বাবুল অশোভন আচরণ করেছেন, মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন-এমন তথ্য জানিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের আগ বাড়িয়ে সেদিন বক্তব্য দিয়েছিলেন বিএমএ সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান।

শনিবার অতি উৎসাহী এই দুই চিকিৎসক নেতা মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে নগরভবনে এ সংক্রান্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত থেকে ‘সমবেদনাপত্রে’ স্বাক্ষর করেন।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সমস্যা তো এই দুই চিকিৎসক নেতার সাথে হয়নি। মূলত বাবুলের সাথে ইন্টার্নি চিকিৎসকের সাথেই সমস্যা ও সঙ্কট তৈরি হওয়াকে কেন্দ্র করে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন বাবুল।

ওয়াকিবহাল মহল বলছেন- ‌সমঝোতা হলে, সমবেদনা জানানোর বিষয় আসলে নিয়মানুযায়ী বাবুল এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথেই হবে। সেক্ষেত্রে বিএমএ নেতারা মধ্যস্ততার ভূমিকায় থাকবেন অথবা সমবেদনার সাক্ষী হবেন।

কিন্তু ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাইরে রেখে বিএমএ’র অতি উৎসাহী নেতারাই বৈঠক করলেন, বাবুলকে সমবেদনা জানালেন।

বিএমএ নেতারাই কি তাহলে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন, অতিরঞ্জনের ফানুস উড়িয়েছিলেন? যদি তা না হয় তাহলে কেন তাদের ‘অতি উৎসাহ’, ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর আড়ম্বরপূর্ণ ‘সমবেদনা-নাটক’!

এর মধ্যদিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সমর্থিত বিএমএ নেতাদের ‘পলিটিক্যাল-গেম’ই প্রকারান্তরে প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান রোববার দুপুরে জানান, ‘মেয়র মহোদয়ের হস্তক্ষেপে সেদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে কাল (শনিবার)। আশা করি এর মধ্যদিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।’

তিনি বলেন, ‘বাবুল সাহেব সরলমনে মানুষকে জড়িয়ে ধরেন, গায়ে হাত দিয়ে কথা বলেন। সেদিন যা হয়েছিল তা তার স্বভাবসুলভ আচরণ ও সরলতারই বহিঃপ্রকাশ। এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল। পরে যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’

কিন্তু সেদিন তো আপনারই অন্যভাবে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, আগ বাড়িয়ে সাংবাদিকদের খবর দিয়েছিলেন, তখন বুঝতে পারেননি স্বভাবসুলভ আচরণবশত এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বাবুল-এই প্রশ্নে ডা. মুজিবুল হক খান বলেন, ভাই আমি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম নাকি। অনেক পরে আমি ঘটনাস্থলে হাজির হই। এসেই সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করি এবং বাবুল সাহেবকে মুক্ত করে বাসায় পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করি।

যে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে বাবুলের সমস্যা হয়েছিল তিনিও শনিবার সন্ধ্যায় নগরভবনে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন এই বিএমএ নেতা।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মহানর আ.লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের দৃশ্যমাণ দুটি গ্রুপ রয়েছে চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে। রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় রাজনীতি করলেও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বরাবরই সখ্যতা বজায় রেখেছিলেন।

এছাড়া, গেল বিএমএ নির্বাচনে মহিউদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে বাবুল কাজ করেছিলেন বলেও জনশ্রুতি আছে। এতে আ জ ম নাছির উদ্দীন সমর্থিত বর্তমান বিএমএ নেতারা সংক্ষুব্ধ হন। ঈদের আগের দিন ইন্টার্ন চিকিৎসকের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, প্রতিশোধ নিয়েছেন বিএমএ নেতারা। এমন মন্তব্যও করছেন অনেকেই।

মুচলেকায় ছাড়া পেলেন রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল

অসৎ উদ্দেশ্যে চিকিৎসককে শারীরিক হেনস্তা, স্বীকারোক্তি উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুলের