চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের পর যাচাই-বাছাই করে অচিরেই তাদেরকে পুনর্বাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন। সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিনি এ কথা জানান।
২০০৭ সালে গঠিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার। এর আগে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৬তম সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, নগরী ও আশেপাশের এলাকায় ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৬৬৬টি পরিবার বসবাস করছে। তবে সোমবারের সভায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের যে তালিকা দেওয়া হয় তাতে ২৮টি পাহাড়ের নাম আছে; সেখানে বসবাস করছে ৬৮৪টি পরিবার।
বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সাথে আলাপ করেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, যারা পাহাড় থেকে উচ্ছেদ হবে তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের যে তালিকা জেলা প্রশাসন করেছে, সে তালিকা যাচাই-বাছাই করার পর পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এই কাজ অচিরেই শুরু হবে। আশা করছি, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যা পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী উচ্ছেদ ও তাদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত যে সমস্যা তা সমাধান হবে।
অবৈধ বসতিতে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, এসব সংযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন বারবার বিচ্ছিন্ন করে। আবার সেখানে মানুষ এসে অবৈধ সংযোগ নেয়। তাই সরকারি নীতিমালা অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে আমরা কেউ নই। আইনকে প্রয়োগ করছি না বলে হয়ত অবৈধ সংযোগ নিতে সাহস পাচ্ছে।
সভায় পাহাড়ের মালিক বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পাহাড়গুলোর ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বে আছে। সে সমস্ত সংস্থার যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন, তাদেরকে প্রেরণ করবেন। সভায় যারা আসেন তারা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। তাদের কাছে কোনো তথ্য উপাত্ত নেই। কোথায় কী সমস্যা, কোথায় কে বাধা দিয়েছে- তা আমরা জানতে চাই। তথ্য-উপাত্তসহ আলোচনা করতে চাই। পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো অত্যন্ত দুরূহ কাজ। সকলের সহায়তা প্রয়োজন।
সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল জলিল, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইসরাত রেজা, নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউল হক ভূঁইয়া, সীতাকুন্ডের ইউএনও নাজমুল ইসলাম ভুঁইয়া প্রমুখ।