চট্টগ্রাম: ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক মশা ঠেকাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নেয়া ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সোমবার বিকেলে জামাল খান ওয়ার্ডের হেমসেন লেইনস্থ কাঁচাবাজার এলাকায় নালায় নিজহাতে মশার ওষুধ ছিটান মেয়র।
ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া জ্বরে কেউ আক্রান্ত হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়ার আহবান জানিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সচেতন হলে এ ধরনের রোগ থেকে রক্ষার সুযোগ রয়েছে। এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়ে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া ভাইরাসজনিত রোগ হতে পারে। সে কারনে বাড়ীর আঙ্গিনা, আশপাশ, ঝোপঝাড় সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জমা থাকা পানি তিনদিন পর পর ফেলে দিলে এডিস মশার লার্ভা মরে যাবে।
তিনি বলেন, ফুলের টব, প্লাষ্টিক পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাষ্টিক ড্রাম, মাটির পাত্র, ভাঙ্গা বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারি সেল, পলিথিন,চিপস্ এর পেকেট ইত্যাদিতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে। সে কারনে এ সকল পাত্রে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে।
মেয়র বলেন, অপ্রয়োজনীয় বা পরিত্যক্ত পানির পাত্র ধ্বংস অথবা উল্টিয়ে রাখতে হবে। যাতে পানি জমতে না পারে। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। যাতে মানুষের গায়ে মশা কামড় দিতে না পারে। বাড়ীর আঙ্গিনা, স্কুল-কলেজ, দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি জায়গায় এডিস মশা জন্ম নিতে পারে। সেসকল জায়গা প্রতি নিয়ত পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
সবার সার্বিক সহযোগিতায় নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা গেলে রোগ বালাই থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ২১ নং জামাল খান ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শৈবাল দাশ সুমন। ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত মশক নিয়ন্ত্রন ও নিধনের এ কর্মসূচিতে ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ২শত লিটার সার্ভেসাইড (মশার ডিম ধ্বংসকারী ঔষধ) এবং ৬ শত লি. এডালটিসাইড (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী ঔষধ) ছিটানো হবে। চসিক এর পরিচ্ছন্ন বিভাগ প্রতিবছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ৫ মাস মশার উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য উল্লেখিত ঔষধ ছিটিয়ে থাকে। এখন ঢাকায় চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জুলাই-আগস্ট দুই মাস ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়েছে চসিক।