রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

‘মদ্যপ ওসির কর্মকান্ডের’ সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

| প্রকাশিতঃ ১৩ জুলাই ২০১৭ | ৬:৫৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: মদ্যপ অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে হোটেলের রুম বয় ও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাকে ওসি মাইনুল ইসলাম ভূইয়ার মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে সেখানে উল্লেখ আছে। এখন তার যতটুকু শাস্তি প্রাপ্য তার সুপারিশ করে আমি সদর দপ্তরে এটা পাঠাব। তখন একজন অতিরিক্ত আইজিপি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

এদিকে এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছিল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) নাজমুল হাসানকে প্রধান করে কমিটিতে সদস্য রাখা হয় সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) ও গোয়েন্দা পুলিশের একজন পরিদর্শককে।

তদন্ত কমিটির সদস্য সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) এবিএম ফয়জুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক মাইনুলসহ ২৪ জনের বক্তব্য নেয়া হয়। তাদের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ থেকে নেয়া ১০টি ছবি তদন্ত প্রতিবেদনের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় নগরীর আগ্রাবাদ মোড়ের হোটেল সেন্ট মার্টিনের রুম বয় এবং ডবলমুরিং থানার এসআই সৈয়দ আলমকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠে মাইনুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে। সদরঘাট থানার ওসি দায়িত্বে থাকাকালীন ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে পিটিয়ে আহত করার পর স্ত্রীসহ আটক করেন ওসি মাইনুল; এ ঘটনার জেরে গত বছর তাকে ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

সূত্রমতে, সাদা পোশাকে হোটেল সেন্ট মার্টিনে গিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মাইনুল। চাওয়া অনুযায়ী ব্রান্ডের মদ দিতে না পারায় রুম বয়কে মারধর করেন তিনি। হোটেলের এক নিরাপত্তাকর্মীও তার প্রহারের শিকার হয়েছিলেন। রাত দেড়টায় ওই ঘটনা ঘটিয়ে ফিরে আসার পর মাইনুল পুনরায় গাড়িতে করে ওই হোটেলে গিয়ে মোবাইল ডিউটিতে থাকা ডবলমুরিং থানার এসআই সৈয়দ আলমের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাকেও মারধর করেন। এ নিয়ে এসআই সৈয়দ অভিযোগ করার পর কয়েকজন কর্মকর্তা হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযোগের সত্যতা পান। পুরো বিষয়টি প্রাথমিক তদন্ত করে ৪ জুলাই সিএমপি কমিশনানকে প্রতিবেদন জমা দেন ডবলমুরিং থানার ওসি একেএম মহিউদ্দীন সেলিম।