মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

পুকুর ভরাট করে ‘কুমার বিশ্বজিৎ হাউজিং’

প্রকাশিতঃ ৯ জানুয়ারী ২০২৩ | ১০:০২ পূর্বাহ্ন

এম কে মনির : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদরের নামার বাজার এলাকায় ৬৭ শতকের একটি পুকুর ভরাট করে প্লট-কাঠা হিসেবে জমি বিক্রি করছেন সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ। ওই এলাকার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘কুমার বিশ্বজিৎ হাউজিং’।

সরেজমিন দেখা যায়, নামার বাজার সড়কের দক্ষিণ পাশে রয়েছে কুমার বিশ্বজিতের মালিকানাধীন একটি দ্বিতল বিপণী বিতান। যেখানে রয়েছে ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠানসহ অর্ধশতাধিক দোকান। আর এ বিপণী বিতানের পেছনে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির একটি খোলা মাঠ।

দেখলে মনে হতে পারে, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ এটি। কিন্তু না, বালু দিয়ে ভরাট করা বিশাল আকৃতির মাঠটির একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল পুকুর। অন্য অংশে ছিল নিচু জমি। স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালের আগস্টে কয়েকশ’ ট্রাক বালু ফেলে ওই জায়গাটি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। সঙ্গে পুকুরের বড় অংশটিও ভরাট করে ফেলা হয়। ভরাটের সময় পুকুর ও জায়গাটির চারপাশে থাকা অর্ধশতাধিক নারিকেল গাছ, আম গাছ, জাম গাছ, সুপারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

মাত্র ৫ মাস আগেও যে জায়গাটি জলজ প্রাণির আশ্রয়স্থল ছিল, সেটি এখন কেবল বালুর মাঠ। ভরাটের সময় পুকুরে থাকা অগণিত মাছ, জলজ প্রাণি ও উদ্ভিদ বালুর নিচে চাপা পড়েছে। সেখানে এখন প্লট-কাঠা (এক কাঠা সমান ১.৬৫ শতক) আকারে জায়গা বিক্রি করা হচ্ছে। জায়গাটির বাইরের একটি ফটকে টাঙানো হয়েছে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনও। যেখানে লেখা রয়েছে ‘সুখবর, সুখবর, সুখবর- সীতাকুণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে নিস্কন্ঠক জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন আকারের জমি বিক্রি হচ্ছে। জায়গার মালিকঃ কুমার বিশ্বজিৎ।’ ওই বিজ্ঞাপনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, পৌরশহর, গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ লোকেশন ম্যাপ এঁকে দিয়ে জায়গাটি সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজারের প্রাণকেন্দ্রে বুঝানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর বেআইনি। কোনো ব্যক্তি এ ধারা লঙ্ঘন করলে আইনের ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী যেকোনো ধরণের জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

জানা যায়, ১৯৬৫ সালে জায়গাটি ছিলো রায় বাবুদের বাড়ি। যেখানে বড় একটি পুকুর ছিল। যুগ যুগ ধরে পুকুরটি প্রাকৃতিক পানির উৎস ছিল পুকুরটি। বর্ষাকালে বাজারের অতিরিক্ত পানি জমা হতো সেই পুকুরে। একসময় পাক-ভারত যুদ্ধের সময় রায় বাবুরা বাংলাদেশ ছাড়লে জায়গাটি কিনে নেন কুমার বিশ্বজিৎ বাবা সাধন রঞ্জন দে। গত বছরের আগস্টের আগেও বাড়ির পুকুরটি ছিল। তবে পুকুরে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেটির পানি দূষিত হয়ে পড়ে। গেল আগস্ট মাসের শুরুতে মহাদেবপুর মৌজার পুকুর শ্রেণির ৬৭ শতক শতকের জায়গাটিতে ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। ভরাট করে বালুর মাঠে রূপ দেয়ার পর ‘কুমার বিশ্বজিৎ হাউজিং’ নাম দিয়ে জায়গাটিকে ১২টি প্লটে ভাগ করা হয়েছে। কোনো কোনো প্লটে ৩ শতক, কোনো প্লটে ৪ শতক কিংবা তার কমবেশি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় দুয়েকজন ব্যবসায়ী সম্মুখ ভাগের দুটি প্লট কিনে নিয়েছেন। যা শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ রেজিস্ট্রি দিয়েছেন।

সীতাকুণ্ড সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহাদেবপুর মৌজার ৫০৮ দাগে ৬৭ শতক পুকুর শ্রেণির জায়গা রয়েছে। যার মালিক শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুকুর ভরাট করে তৈরি করা ওই জায়গাটিতে সামনের প্লটগুলো ৫৫ লাখ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। আর পেছনের প্লটগুলোর ৩৫-৪০ লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রেণি পুকুর হলেও কোন ধরণের শ্রেণি পরিবর্তন তিনি করেননি।

জমি কেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জায়গাটির এক অংশ পুকুর ছিল। বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়নি। পুকুর শ্রেণি জায়গার দাম কম হলেও ভরাটের কারণে এখন দাম বেড়ে গেছে।

জানতে চাইলে কুমার বিশ্বজিৎ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সেটি ছিল একটি পরিত্যক্ত পুকুর। সেখানে কোন নালা ছিল না। পাশের মিষ্টির দোকান থেকে ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো। এসব আবর্জনা আমার পুকুরে এসে পড়ত। এজন্য আমার নিজের জায়গায় তাদেরকে ময়লা ফেলার জন্য নালা করে দিয়েছি। এতো দামি জায়গা আমি নালা হিসেবে দিয়েছি। তবুও তারা অসচেতনভাবে নোংরা আবর্জনা ফেলে আসছিল। পুকুরে কোন মাছ উৎপাদন হতো না। সব মাছ মেরে যেত। ধীরে ধীরে ওই পুকুরটি একটি বিষের আখড়ায় রূপ নিল। সেখানে কেউ পা ধুলেও পায়ে ফোস্কা পড়ে যেত। আমি যখন মাটি ভরাট করি তখনও সেখানে নিয়োজিত শ্রমিকরাও বিষাক্ত পানির কবলে পড়ে। তারা দীর্ঘ দিন এ পানির সংস্পর্শে আসায় পরবর্তীতে শারীরিক রোগে ভুগতে হয়েছে।’

পুকুর বা জলাশয় ভরাট আইনত বেআইনি- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘পরিত্যক্ত হয়ে গেলে তো আর সেটি পুকুর থাকে না। পুকুরটি পাশ্ববর্তী মিষ্টির দোকানের আবর্জনার ভাগাড়ে রূপ নিয়েছিল। পুকুরটি আকারে ছোট ছিল। আমি শখ করে সেখানে বোটও দিয়েছিলাম। কিন্তু এতো দুর্গন্ধ ছিল যে কেউ সেখানে যেতে পারতো না। আশেপাশের মানুষজন প্রায় দুর্গন্ধের জন্য অভিযোগ করতো। পরবর্তীতে পাশের একটি বিল্ডিং থেকে ময়লা ফেলতো। শেষমেষ আমি সেটিকে আর পুকুর রাখতে পারিনি। বাধ্য হয়েই ভরাট করেছি।’

পুকুরটি রক্ষা করতে না পারার জন্য পৌরসভাকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার উচিত ছিল ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করে পুকুর সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা। ব্যবসায়ী সমিতিও এ বিষয়ে অবগত ছিল। আমি দরবারে দরবারে ঘুরেছি এ পুকুর রক্ষার জন্য। পরিবেশ অধিদপ্তরেও অভিযোগ দিয়েছি। কোন প্রতিকার পাইনি। একটি বাজারের দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা কোথায় ফেলা হবে সেটি পর্যন্ত সেখানে নির্দিষ্ট নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পৌরসভার কোন পরিকল্পনাও নেই। যখন আমার পুকুরে আবর্জনা ফেলা হচ্ছিল তখন কেউ রিপোর্ট করেনি। তখন যদি রিপোর্ট করতো, সবাই সচেতন হতো তাহলে পুকুর ভরাট করা লাগতো না। পুকুরটি রক্ষা করা যেত। ঢাকা শহরে থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে ঝগড়া করার সময় তো আমার নেই। তাদেরও দায়িত্ব আছে এখানে।’ যোগ করেন কুমার বিশ্বজিৎ।

জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘পুকুর বা যেকোনো ধরণের জলাশয় ভরাটের কোনো সুযোগ নেই। পুকুরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হলে অথবা পুকুর দূষিত হয়ে পড়লে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে পুকুরকে স্বরূপে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য ভরাট করে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।’ কুমার বিশ্বজিৎ এর অভিযোগ দেয়া ও প্রতিকার না পাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জানা নেই। আমরা দ্রুত সীতাকুণ্ডে পরিদর্শনে যাব এবং পুকুর ভরাটের বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।’

সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আইনে পুকুর ভরাটের সুযোগ আছে, তবে সেটি অনুমতি নিয়ে। পুকুর ভরাট করতে হলে অনুমতি নিয়ে করতে হবে। কুমার বিশ্বজিতের পুকুর ভরাট বিষয়ে আমার জানা ছিলো না। তিনি শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য কোন আবেদন করেননি এবং পুকুর ভরাটের অনুমোদনও নেননি। আইনে পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রি করার সুযোগ নেই। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুকুর ভরাট করতে বাধ্য হওয়ার কিছু নেই। ভরাট করতে হলে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি না নিয়ে ভরাট করা যাবে না।’

শুধু কুমার বিশ্বজিতের পুকুর নয়, আইন লঙ্ঘন করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদরের কলেজ রোডের বড় বাজার এলাকায় একটি শতবর্ষী পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওই পুকুরের অর্ধেক অংশ বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। কেটে ফেলা হয়েছে পুকুর পাড়ের বেশকিছু গাছও।
সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড মহাদেবপুর গ্রামের এ পুকুরটির আয়তন প্রায় ৫৯ শতক। যুগ যুগ ধরে পুকুরটি স্থানীয়রা ব্যবহার করে আসছেন। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে কলেজ রোডের বড়বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী ওই পুকুরটিতে ট্রাকে করে বালু ফেলা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে পুকুরটি। এসময় পুকুর পাড়ে কেটে ফেলা গাছপালার ডাল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে থাকা আরও গাছপালা কাটার প্রস্তুতি চলছে।

এসময় কথা হয় পুকুরটির আগের মালিক প্রদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, পুকুরটি আমরা বিক্রি করে দিয়েছি। পুকুরটি দূষিত হয়ে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে। মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। এটি দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী বলে দাবি করেন তিনি।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুরটি নিয়ে দুটি পক্ষের বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে উভয়পক্ষে মামলাও চলমান আছে। বহুতল ভবন নির্মাণ ও বেশি দামে প্লট বিক্রি করতে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। ট্রাকে ট্রাকে রাতদিন বালু ফেলা হচ্ছে পুকুরে। ইতিমধ্যে প্রভাবশালী একটি গ্রুপকে পুকুর ভরাটের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

তারা আরও জানান, শত বছর ধরে পুকুরটি নিত্য কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। পুকুরটিতে একসময় মাছ চাষ হতো। এখনও অনেক মাছ ও জলজ প্রাণি, উদ্ভিদ রয়েছে এ পুকুরে। বালু দিয়ে ভরাটের ফলে সবকিছু চাপা পড়ে যাচ্ছে।

পুকুর ভরাটের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম অধিকারীর সংশ্লিষ্টতা আছে বলেও অভিযোগ করেন ওই এলাকার বাসিন্দা। জানতে চাইলে গৌতম অধিকারী একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমি পুকুরের মালিক নই। আমি এসব বিষয়ে কিচ্ছু জানি না, বলতেও পারব না। তবে এটি সত্য যে পুকুরটি এখন ময়লা-আবর্জনায় ভরে ডোবায় পরিণত হয়েছে। এটি প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী। পুকুরে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। পুকুর ভরাটের চেয়ে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

পুকুরটির মালিকানা দাবি করে সীবলী সালেম একুশে পত্রিকাকে বলেন, পুকুরের জায়গাটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। বদিউল আলম, এস এম মুরাদ, গৌতম অধিকারীসহ একটি পক্ষ জোরপূর্বক ভরাট করে এটি দখলের পাঁয়তারা করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে আমি পুকুরটি পরিদর্শন করেছি। ভরাটের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পুকুর ও জলাশয় ভরাট বেআইনি।

তবে এসব আইনের কোন তোয়াক্কা নেই সীতাকুণ্ডে। গত ১ বছরে কেবল পৌরসদরেই ভরাট করা হয়েছে অর্ধ শতাধিক বড় বড় দীঘি ও পুকুর। সীতাকুণ্ডের উত্তর বাজারের দাস পাড়ায় একটি প্রাচীন পুকুর ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে সীতাকুণ্ড চক্ষু হাসপাতালের বহুতল ভবন ও মার্কেট।

একই এলাকায় ভূঁইয়া টাওয়ারের পেছনে আরেকটি পুকুর ভরাট করা হয়েছে। গত কয়েক মাস আগে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তা মানেননি মালিকরা। পৌরসদরের সোবহান বাগ ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামসুল আলম আজাদ পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন গড়ে তুলেছেন। এছাড়াও সীতাকুণ্ড বাজারের আশেপাশে বেশ কয়েকটি প্রাচীন বড় দীঘি এখন ভরাটের পথে। অনেক দীঘি দখল-দূষণে বিপর্যস্ত। অনেকগুলো কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনায় ডোবায় পরিণত হয়েছে। এসব দীঘি ও জলাশয় সংরক্ষণে ও পরিবেশ রক্ষায় তেমন কোন উদ্যোগ নেই।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক জামশেদ উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের প্রাচীন দীঘিগুলোর সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি জড়িত আছে। সীতাকুণ্ডের দেওয়ান দীঘি, লাল দীঘি, রেলওয়ে ডেবা, গজারিয়া দীঘিসহ বড় বড় দীঘি ও পুকুরগুলোতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা অনেক সময় কাটিয়েছেন। যুদ্ধের কৌশল হিসেবেও এগুলোর ভূমিকা রয়েছে। যা আমার লেখা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তাই সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’

পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী এম এ আরাফাত এলাহী বলেন, ‘পুকুর ও জলাশয় ভরাট করা বেআইনি। সাময়িক প্রয়োজনের কথা ভেবে আমরা জলাশয় ভরাট করে ফেলি। বৃহত্তর স্বার্থে জলাশয়-জলাধারগুলো অধিগ্রহণ করে সরকারকে সংরক্ষণ করতে হবে। পুকুর ও জলাশয়ের বহুবিধ ব্যবহার আছে। পুকুরে কেউ গোসল করবে, কেউ সাঁতার কাটবে। এটি শারীরিক চর্চার একটি জায়গাও। আমরা পান করার চেয়ে পানি ব্যবহার করি বেশি। পুকুর হচ্ছে প্রাকৃতিক পানির প্রধান উৎস। শুধু তাই নয় কোন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস যদি দ্রুত পৌঁছাতে না পারে সেক্ষেত্রে পুকুরের পানি দিয়ে স্থানীয়রা আগুন নেভাতে পারবেন। এছাড়া বর্ষাকালে অতি বৃষ্টির পানি জলাশয়-জলাধারে জমা হয়। এতে বন্যা থেকে রেহাই পায় গ্রামবাসী। অন্যদিকে পুকুরের উপর ভবন নির্মাণ করা হলে ঝুঁকি থাকে। ভূমিকম্পে ওই ভবন ধ্বসে যেতে পারে।’