চট্টগ্রাম: মায়ানমার থেকে ইয়াবা প্রবেশ ঠেকাতে দুই দেশের সীমানা নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধের ঘোষণা সরকার দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। শনিবার দুপুরে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ধ্বংস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমরা নাফ নদীতে জেলেদের কর্মবিরতির কথা ঘোষণা করব, যাতে তারা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকে। আমরা এটা পরীক্ষামূলকভাবে করব। তারা সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরবে, সেখানে আমাদের কোনো বাধা নেই। আমরা শুধু অনুরোধ করব নাফ নদীতে যেন না যায়।
তিনি বলেন, আমাদের বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের যাতে নজরদারি করতে পারে কারা সীমান্ত পাড়ি দেয়, কারা নদী অতিক্রম করে এবং এখানে ইয়াবা নিয়ে আসে। তাহলে ইয়াবা নিয়ে আরও সুন্দরভাবে কাজ হবে।
প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধের উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইলিশের মৌসুমে আমরা যেমন বলি যে, তোমরা ইলিশ ধরো না, মা ইলিশ ধরো না। সেভাবে জেলেরা কিন্তু ইলিশ ধরতে নদীতে যাচ্ছে না। এর ফলে আজ ইলিশের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।
ইয়াবা আসা বন্ধে মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কোন মাদক তৈরি করি না। তারপরও আমরা এর শিকার হচ্ছি। একসময় ভারত থেকে ফেনসিডিল আসত। এই ফেনসিডিল আসা বন্ধে ভারত সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সেখানে আমরা কিছুটা সফল হয়েছি। কিন্তু মিয়ানমারের ক্ষেত্রে সুফল পাচ্ছি না। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলছি। ভয়াবহতা সম্পর্কে তাদের জানাচ্ছি। তারা অব্যাহতভাবে বলে যাচ্ছে আমাদের সঙ্গে কাজ করবে, সহযোগিতা করবে। আশা করি একদিন ইয়াবাটা যেন মিয়ানমার থেকে না আসে সেজন্য তারা সহযোগিতা করবে। এছাড়া ইয়াবা ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ করছি।
জঙ্গি দমনে সফলতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে সে জায়গায় আমাদের বিফল করতে চায়। আর একটা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত সেটা ইসলাম ধর্মকে কলঙ্কিত করতে চায়। সেটা জনগণ বুঝতে পেরেছে।সেজন্য জনগণ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আজকে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিতে পারি যে কন্ট্রোল করতে পেরেছি। আমরা শিগগিরই এই জঙ্গিদের মূলোৎপাটন করতে পারব সেটাও আমরা বিশ্বাস রাখি। কারণ আমাদের দেশের ধর্মভীরু জনগণ এই জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না। জঙ্গিদেরকে তারা ধরিয়ে দেয়। মা তার ছেলেকে ধরিয়ে দেয়। বাবা তার ছেলেকে ধরিয়ে দেয়। এটাই হলো বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, ছয় মাসের জন্য নাফ নদীর এক কিলোমিটারকে আমরা নো ফিশিং জোন করে দেখতে পারি। মাছ ধরতে গিয়ে ইয়াবা আনছে। পাশাপাশি দুইটি জাহাজ থাকলে অনেক সময় দেখা যায়, দুটি জাহাজ দুই দেশের। এসব জাহাজের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার হয়। এজন্য আমাদের ট্রলারগুলোকে যদি কোন বিশেষ রঙ দেওয়া যায় এবং জেলেদের আইডি কার্ড দেওয়া যায় কি না চিন্তা করতে হবে। এতে করে আমাদের ফিশিং ট্রলারগুলোকে নজরদারী করতে আমাদের সুবিধা হবে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ইয়াবা উদ্ধারের পর সোর্স মানি হিসেবে ইয়াবা দেয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়টা যাচাই করার জন্য আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাব। যেহেতু কথা একটা শোনা যাচ্ছে, সেহেতু এটা তদন্ত করে দেখা উচিত।
র্যাব-৭ সদর দফতরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) আতাহার আলী, চট্টগ্রাম মহানগর কমিশনার ইকবাল বাহার বক্তব্য রাখেন।
শনিবার ওই অনুষ্ঠান শেষে ৩৫ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা, ২০০ কেজি গাঁজা, ৭ হাজার ১৮১ বোতল ফেনসিডিল এবং ২০০ বোতল বিদেশি মদ-বিয়ার ধ্বংস করা হয়েছে।