মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চীনের প্রযুক্তি খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি

| প্রকাশিতঃ ২০ অগাস্ট ২০২৩ | ১:০৩ পূর্বাহ্ন


ফারুক আবদুল্লাহ : প্রযুক্তিবাজারে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধ চলছেই, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে এখন থেকে চীনা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না মার্কিন কোনো ব্যক্তি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

নিষেধাজ্ঞায় কয়েকটি খাতের কথা উল্লেখ করেছে মার্কিন প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং। এসবের মাধ্যমে সামরিক এবং গোয়েন্দা অ্যাপ্লিকেশনও থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, মার্কিন বিনিয়োগ কোনোভাবেই যাতে চীনের সামরিক আধুনিকায়নকে সহায়তা না করে। এটি ওয়াশিংটনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এই আইনের ফলে এখন থেকে কেউ বিনিয়োগ করছে কিনা– তা আরও বেশি নজরদারি করবে সংস্থাগুলো।

যদি এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তাহলে অবশ্যই বিশ্বের শিল্প ও সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিছু উন্নত চিপ উৎপাদনে হাজারটিরও বেশি প্রক্রিয়া জড়িত ও সম্পূর্ণ করতে ৭০টিরও বেশি আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র বাজারের নিয়ম লঙ্ঘন করে এ পথে অগ্রসর হলে নিজেরও ক্ষতি করবে।

বিশেষ করে, চীন হলো বিশ্বের বৃহত্তম চিপ বাজার। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো চীন ত্যাগ করলে, তাদের স্বার্থের ক্ষতি হবে। সেজন্য গত জুলাই মাসে ইন্টেল, কোয়ালকম, এনভিডিয়াসহ বিভিন্ন মার্কিন চিপ কোম্পানির নির্বাহীরা যৌথভাবে মার্কিন সরকারের চীনে চিপ রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

পাশাপাশি, মার্কিন সরকার চীনে বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বাইডেন বারবার চীনের কাছ যুক্তরাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন না-করার কথা বলে আসছে এবং চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা দেওয়ার কোনো অভিপ্রায় না-থাকার কথাও বলেছে। কিন্তু বাস্তবে মার্কিন সরকার চীনে বিনিয়োগ সীমিত করা ও চীনের উচ্চ-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নকে দমন করার চেষ্টা করছে। আর এর মাধ্যমে এই প্রশাসন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।

হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার আগে বাইডেন মিত্রদের সঙ্গে আলাপ করেছেন এবং গ্রুপ অব সেভেন নেশনসের মতও নিয়েছেন।

সিনেটের ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে চীনের সামরিক বাহিনীর অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বড় অবদান রেখেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র বিদেশী রাষ্ট্রের সামরিক ঊত্থানে নিজস্ব বিনিয়োগ বন্ধ করার মাধ্যমে প্রথম উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এ আদেশ ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকে প্রভাবিত করবে। বর্তমানে যেসব বিনিয়োগ চলমান সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। কিন্তু যেকোনো ধরনের লেনদেনের বিষয়ে বাইডেন প্রশাসন জানতে চাইতে পারে বলেও জানানো হয়। নতুন আদেশের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরো অবনমন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের আদেশটি এন্টারপ্রাইজগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলবে।

মন্ত্রণালয়ের আশা প্রকাশ করছে, যুক্তরাষ্ট্র বাজার অর্থনীতির আইন ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার নীতিকে সম্মান করবে। এছাড়া কৃত্রিমভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য বিনিময় এবং সহযোগিতাকে বাধা দেয়া বা বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন থেকে বিরত থাকবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিনিয়োগ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, চীন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার বা দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাধা দেয়ার বিষয়ে বাইডেনের অঙ্গীকার পূরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। যেসব চীনা কোম্পানি কম্পিউটার চিপ ও এটি তৈরিতে ব্যবহৃত টুলের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করে সেসব জায়গায় মার্কিন বিনিয়োগ বন্ধের কথা বলা হয়েছে। এসব খাতের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও নেদারল্যান্ডস। চীন এসব দেশের বিকল্প হয়ে ওঠার জন্য অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়েছে।