মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চাপ দিলে চীনের দিকে ঘেষতে পারে বাংলাদেশ

| প্রকাশিতঃ ২৯ অগাস্ট ২০২৩ | ৩:০০ অপরাহ্ন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশকে চাপ দেওয়া হলে তা চরমপন্থীদের হাতকে শক্তিশালী করতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে -এমনকি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ইস্যুতে চাপপ্রয়োগ দেশটিকে চীনের দিকেও ঠেলে দিতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ভারত।

ভারতীয় এই বার্তার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এমনটাই বলা হয়েছে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে।

যদিও ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তারাও বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া চায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা সরকারকে চাপ প্রয়োগ করায় সরকার বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) সংগঠিত হতে পেরেছে।

এতে বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত জামায়াত-ই-ইসলামিও পুনরজ্জীবিত হয়েছে। গত ১০ জুন ঢাকায় ১০ বছরের মধ্যে জামায়াত সবচেয়ে বড় সমাবেশ করেছে। এতেও নয়াদিল্লির উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ দলটি সর্বদা ভারত বিরোধী এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলে।

ভারতীয় পক্ষ এও বিশ্বাস করে যে -জামায়াতের শক্তিশালীকরণ চরমপন্থী শক্তিকে উত্সাহিত করতে পারে এবং যে অঞ্চলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে -যেমন ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় বসার পর ঢাকার সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক কাটাচ্ছে নয়াদিল্লি। এ সময় ভারত-বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে দমন করার পাশাপাশি, শেখ হাসিনা সরকার উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য মূল বন্দরগুলোতে প্রবেশাধিকার সহ জ্বালানি ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়েছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ১৫ তম ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। প্রেসিডেন্ট শি স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন, চীন বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য ঢাকার সঙ্গে কাজ করবে।

পাশাপাশি চীনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে।

এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চীনের সুযোগ নেওয়ার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেটিও ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।