
ঢাকা : জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে হিউম্যান পাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী ইসরাত জাহানকে এইচপিভি টিকাদানের মধ্য দিয়ে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দেশে সরকারিভাবে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
প্রথম দিন ১১ জন ছাত্রীকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেয়া হয়। এদের মধ্যে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুলের ৭ জন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের একজন, ডিপিএস স্কুলের ২ জন এবং নারায়ণগঞ্জ সরকারি স্কুলের একজন।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় (ইপিআই) এই টিকাদান শুরু হয়। ‘এক ডোজ এইচপিভি টিকা নিন; জরায়ু ক্যান্সার রুখে দিন’- প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশে শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের অর্থাৎ পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের (প্রশাসন ও অনুবিভাগ) অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, ইপিআইয়ের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে সীমিত আকারে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি ১ কোটি শিশুকে এই টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। এই টিকাদানের মাধ্যমে আমরা দেশে আরো একটি মাইলফলক অর্জন করছি। আমরা দেখেছি এই টিকা নিরাপদ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এই টিকা নারীদের শরীরে এন্টিবডি তৈরি করবে। এই টিকা নিয়ে সারাজীবনের জন্য ক্যান্সার থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। তবে তার মানে এই না যে স্ক্রিনিং করা লাগবে না। নারীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন।
অধ্যাপক ডা. খুরশিদ আলম বলেন, করোনা টিকাদানেও আমরা সফলতা অর্জন করেছি। এবারও তা সম্ভব হবে। আমরা এক ডোজের এই টিকার বিষয়ে মানুষকে জানানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা সব প্রতিষ্ঠানেই লিফলেট বিতরণ করবো। রুটিন টিকার জন্য আমরা এই টিকাটিও অন্তর্ভুক্ত করবো। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে কাজ করব।
এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী একটি নীতিমালা করা হয়েছে। মোট টিকা পাওয়ার যোগ্য ৯৫ ভাগকে দেয়ার টার্গেট রয়েছে। তিন ধাপে এই টিকা দেয়া হবে। প্রথম ধাপে এই টিকা ঢাকা বিভাগের সব স্কুলে দেয়া হবে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ও বরিশালে চলবে এই টিকাদান এবং এর পরের ধাপে সারাদেশে দেয়া হবে। এখনই মূল টিকাদান কর্মসূচি শুরু না হলেও অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখে তা শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের মাধ্যমে যেভাবে টিকা নেয়া যাবে তা দেখানো হয়।
ওয়েব সাইটটি হলো https://vaxepi.gov.bd। এই সাইটটিতে শুধু এইচপিভি টিকা ছাড়াও নিবন্ধনকৃতদের জন্য প্রযোজ্য ইপিআইর যেসব টিকা নেয়া যাবে তাও জানানো হবে। চাইলে সেসব টিকা নিতেও আবেদন করা যাবে।