মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান

প্রকাশিতঃ রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০১৫, ৫:০০ পূর্বাহ্ণ

রেহানা বেগম রানু
cop-paris-perspective-croppedলিমা জলবায়ু সম্মেলনে বর্তমান পরিবেশমন্ত্রীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ তাই, প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে (কপ ২১) বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব নিজের কাছে নেওয়ার জন্য এবং একটি আইনী বাধ্য বাধকতামূলক জলবাযু চুক্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্লাইমেট এ্যাকশন নেটওয়ার্ক সাউথ এশিয়া (সিএএনসিএ), এ্যাকশন এবং ইক্যুইটিবিডি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।
ইক্যুইটি এন্ড জাস্টিজ ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি) এর রেজাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্স স্টাডিজের ড. গোলাম রাব্বানী, ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড (সিএসআরএল) এর ড. শরমিন নিলর্মী এবং জিয়াউল হক মুক্তা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের ড. এম এ মতিন, ফোরাম অব এনভায়রনমেন্টাল জার্নালিস্ট ইন বাংলাদেশ’র কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের কাওসার রহমান, কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের জাহাঙ্গীর হোসেন মাসুম, উন্নয়ন ধারার আমিনুর রসুল বাবুল, এ্যাকশন এইড এবং সিএএনএসএ’র সাজিদ রহমান, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম, ইক্যুইটিটিবিডি’র সৈয়দ আমিনুল হক যৌথভাবে এই বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে তারা এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চারটি বিশেষ দিক তুলে ধরেন, ১. মানবাধিকারকে সবার উপরে বিবেচনা করা, ২. সম্পদ বণ্টন এবং ভোগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অবসান ঘটানো, ৩. বহুজাতিক কোম্পানির দৌরাত্মে লাগাম টেনে ধরা এবং ৪. সামরিকীকরণ এবং যুদ্ধের অবসান।
বক্তারা- গত লিমা জলবাযু আলোচনায় বর্তমান বন ও পরিবেশমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, জলবায়ু আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একদশকের যে অর্জন এবং অবস্থান তৈরি করেছিল সেটা দেশের স্বার্থ বুঝতে অক্ষম কতিপয় আমলা এবং কনসালটেন্টের কারণে ধ্বংস হতে শুরু করেছে। পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশ আলোচক দলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি দলে সমন্বয় করার যে রীতি সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও ড. খলিকুজ্জামান চৌধুরী চালু করেছিলেন বর্তমান মন্ত্রী সেটাকে অবহেলা করেছেন। এছাড়া, গত লিমা জলবায়ু আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দল প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকেও অনুসরণ করেনি। তারা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে বাংলাদেশ প্রতিনিধির ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন, কারণ এই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কোনও ঋণ না নেওয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান থাকা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ প্রতিনিধিগণ গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে ঋণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিরোধিতা করেননি।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়- ১. জলবায়ু আলোচনার প্রতিনিধি দল গঠনের প্রস্তুতি, এ সংক্রাস্ত অবস্থান তৈরি এবং পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নেওয়া উচিৎ, এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে হতে হবে স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, ২. বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে অবশ্যই একটি আইনী বাধ্য বাধকতামূলক জলবাযু চুক্তির দাবি করতে হবে, ৩. ২১০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২.০ ডিগ্রির নিচে রাখার জন্য ধনী দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং তাদের কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমানোর লক্ষ্য বাড়াতে হবে, বর্তমান হারে নির্গমন বাড়তে থাকলে তাপমত্রা ৬.০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে আর এটা হলে পুরো বিশ্বের জন্য মহা বিপর্যয় ডেকে আনবে, ৪. কানকুন সমঝোতার ১৪ (এফ) প্যারার অনুসারে জলবায়ু তাড়িত উদ্বাস্তু সংকট মোকাবেলায় বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, ৫. জলবাযু অভিযোজনের জন্য স্বল্পোন্নত এবং অতি বিপদাপন্ন দেশগুলোর ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ত্ব আইনের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে