বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কারামুক্তি পেয়েই পরীক্ষার হলে খাদিজা

প্রকাশিতঃ ২০ নভেম্বর ২০২৩ | ১:০৬ অপরাহ্ন

ঢাকা : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় কারাবন্দি থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েই পরীক্ষা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যান খাদিজাতুল কুবরা। সোমবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯ টার সময় কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান এ জবি শিক্ষার্থী।

আর এদিনই তার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তাই কালক্ষেপণ না করে কারা ফটক থেকেই পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে।

গ্রেপ্তার হওয়ার এক বছর দুই মাস ২০ দিন পর মুক্ত হলেন খাদিজা। তাকে নিতে কাশিমপুর কারা ফটকে আসেন তার বোন সিরাজুম মনিরা।

তিনি বলেন, খুব সকালে আমরা কারাগারে আসি। তারপর সকাল ৯ টার সময় খাদিজাকে মুক্তি দেয়। খাদিজার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু আজ থেকে। এজন্যই খুব সকালে আসা। চেষ্টা করব যেন ও পরীক্ষায় উপস্থিত থাকতে পারে।

ইতোমধ্যে খাদিজা দুই সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে পারেননি বলে জানান তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার জামিন পান খাদিজা। বৃহস্পতিবার খাদিজার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরপরও গত তিন দিনে তার মুক্তি মেলেনি।

জানা যায়, জামিনের আদেশ গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু গতকাল দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তাকে ছাড়াই ফিরে যায় স্বজনরা।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ জানান, রোববার (১৯ নভেম্বর) রাতে খাদিজাতুল কুবরার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে তা যাচাই-বাছাই করা হয়। রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় তাকে রোববার মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে সোমবার ভোরে তাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এত ভোরে আত্মীয়-স্বজন না আসায় সকাল ৯টার দিকে খাদিজাতুল কুবরাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। ২০২০ সালের ১১ ও ১৯ অক্টোবর কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন।

ইতোমধ্যে দুই সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে পারেননি খাদিজা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই মামলায় হাইকোর্ট তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।