শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট মিডিয়ার অপপ্রচার : বাণিজ্যমন্ত্রী

| প্রকাশিতঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

সৈয়েদা ফাতেমা পিংকী, ঢাকা : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মিডিয়াকে চাল নিয়ে খবরব্যবস্যা বন্ধ করবার তাগিদ দিলেন।

তিনি বলেন, “চাল নিয়ে মিডিয়ায় প্রচার বন্ধ হলেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। দেশে চালের কোনো সংকট নেই, বাজারে সরবরাহেরও ঘাটতি নেই। ফলে চালের মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই।”

সোমবার বিকেলে বাণিজ্যমন্ত্রী তার দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন।

তিনি বলেন, চালের মূল্য-ঊর্ধ্বগতির জন্য সাম্প্রতিক সময়ে নেয়া কয়েকটি পদক্ষেপের সঙ্গে মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচারই মূলত দায়ী। যার সুযোগ নিচ্ছেন মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা।

তিনি জানান, হাওরে ঢল এবং উত্তরবঙ্গে বন্যার কারণে চালের কাক্ষিত উৎপাদন না হলেও দেশে আদতে চালের কোনো সংকটই নেই। চালের ঘাটতি কমাতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, মিয়ানমার ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে চাল আমদানি করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। ফলে দেশের কোথাও চালের সংকটের দেখা পাবার সুযোগ হয়নি।

তবে কি মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা এটার সুযোগ নিয়েই নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মিডিয়াতে প্রচার হচ্ছে সরকার অমুক অমুক দেশ থেকে চাল আমদানি করছে। এটা দেশের মানুষ দেখছে। সারাদেশে মিলগুলোতে অভিযান চালিয়ে বলা হচ্ছে, মজুদ না করতে। এটাও দেশের মানুষ দেখছে। আবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভারত চাল আমদানি বন্ধ করেছে বলে মিথ্যা প্রচারণা। আজ পত্রিকায় লেখা হচ্ছে কেজি প্রতি ১০ টাকা বাড়ছে, আবার কাল লেখা হচ্ছে ৫ টাকা বাড়ছে। এগুলো দেখেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ সুযোগেই তো ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে!”

মন্ত্রী বলেন, “মিডিয়ার এমন উপর্যুপুরি প্রচারণা ক’দিন বন্ধ থাকলেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এটাই বাস্তবতা। দেশে কোথাও চালের সংকট নেই। দেশের ভেতরেই পর্যাপ্ত চাল মজুদ রয়েছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে বাজারে নতুন চাল উঠবে। ফলে সংকট এখনকার মতো আগামীদিনেও থাকবে না। এ ব্যাপারে শুধু প্রয়োজন ইতিবাচক প্রচারণার।”
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, “সংকট হতো তখন যখন নাকি মানুষ টাকা নিয়ে বাজারে গেছে, কিন্তু চাল কোথাও পাচ্ছে না। কিন্তু তেমনটি কোথাও ঘটেনি। আজও আমি বেনাপোল বন্দরের কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রায় তিন হাজার ট্রাক চাল বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। কাল আমরা মিল মালিকদের সঙ্গেও বসবো। তাদেরকে অনুরোধ জানানো হবে যেন কেউ বাড়তি মজুদ না করে। তাতে দেশের ক্ষতি। দশের ক্ষতি।”