নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার ছেড়েছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশে অবস্থান নিয়েছে বিপুল সংখ্যক শরণার্থী। তাদের এভাবে আসাটা নতুন এক জটিল সমস্যার মুখোমুখি করেছে বাংলাদেশকে। তবুও মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে সরকার। শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে, যার মূল কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অনেকগুলো বড় বড় অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা করেছে। বিডিআর বিদ্রোহ, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মাওলানা সাঈদীর রায়ের প্রতিক্রিয়া, রামুসহ অন্যান্য স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলা, ২০১৪ সালের নির্বাচনকে ঘিরে তিন মাসের জ্বালাও-পোড়াও, যাতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল, জঙ্গিবাদের উত্থান ও হোলি আর্টিজানে হামলা এবং সর্বশেষ পাহাড়ি ঢলে সিলেটের হাওরাঞ্চলের আকস্মিক বন্যা ও ব্যাপক বৃষ্টির ফলে উত্তর ও মধ্য বঙ্গের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঘটনা।
সফলভাবে এসব সংকট মোকাবেলায় শেখ হাসিনা তাঁর দৃঢ়তা ও সাহসী নেতৃত্বের সঙ্গে দক্ষতা ও দূরদর্শিতারও পরিচয় দিয়েছেন। বড় বড় কঠিন সমস্যার বাধা তিনি দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পেরোতে সক্ষম হয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সামনে এবার হাজির হয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা। প্রতিবারের মতো পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের কষ্টের কথা শুনে তিনি কেঁদেছেন। পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় যখন কেউ দিচ্ছিল না, তখন তিনি দিয়েছেন আশ্রয়। স্বার্থের এই পৃথিবীতে মানবতাবাদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে নতুন করে চিনল, জানল বিশ্ববাসী।
রোহিঙ্গা সমস্যা আমাদের জন্য প্রাথমিকভাবে মানবিক ত্রাণ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে হলেও এটি বেশ জটিল আকার ধারণ করার আশঙ্কাও রয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং যদি ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থাও হয়, তাতেও সবাই ফিরবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে আশার বিষয় হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্ক, অনারব মুসলিম দেশ, আরবের মুসলিম দেশ এবং আধুনিক পাশ্চাত্যের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা রয়েছে বাংলাদেশের প্রতি। এই সুযোগটাকে যথাযথভাবে কাজেও লাগাচ্ছে বাংলাদেশ। চীনের মনোভাবে পরিবর্তন ঘটিয়ে সমস্যার যুক্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সরকার আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী দলকে চীন পাঠিয়েছে। এখন পর্যন্ত সবগুলো কাজ ঠিকমতো এগুচ্ছে।
এমন অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিষয়ক সংবাদ নিয়ে সৃষ্টি হয় বিভ্রান্তি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও নির্ভরযোগ্য নয় এমন কিছু অনলাইন পত্রিকায় খবর আসে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের শর্টলিস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম রয়েছে। আর এ গুজব লুফে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। ফেসবুকে এ সংক্রান্ত খবরের শেয়ার বাড়তে থাকে হু হু করে। শুধু তাই নয়, সংসদেও কথা উঠেছে শেখ হাসিনাকে নোবেল দেওয়া নিয়ে। বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই এক অন্তিম চাওয়া, প্রধানমন্ত্রীর নোবেল পাওয়া!
এখন কথা হচ্ছে, মানবতার কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শেখ হাসিনাকে কেন নোবেল পেতেই হবে? লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বাঁচানো শেখ হাসিনাকে নোবেল পুরস্কার কেন দিতেই হবে? আর অনাহারে মরে যাওয়া থেকে লাখো রোহিঙ্গাকে বাঁচানো শেখ হাসিনা কেন এই পুরস্কার নেবেন?
নোবেল পুরস্কার কেন দেওয়া হয়, কী কাজ করলে দেওয়া হয়, এসব এখন বিশ্ববাসীর কাছে অজানা নয়। শান্তিতে অবিশ্বাসী অং সান সুচিকে দেওয়া হয়েছে নোবেল শান্তি পুরস্কার। হেনরি কিসিঞ্জারের মতো অমানবিক লোকও পেয়েছে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। স্বল্প আয়ের মানুষের সঙ্গে চড়া সুদের কারবার করে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন আমাদের দেশের ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এমন আরও অনেক অযোগ্য লোককে দেওয়া হয়েছে নোবেল পুরস্কার।তাহলে এই পুরস্কারের জন্য কেন মুখিয়ে থাকবেন শেখ হাসিনা?
আমরা বিশ্বাস করতে চাই, পুরস্কারের আশায় নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াননি প্রধানমন্ত্রী। মানুষের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার। দুঃসময়ে বিপন্ন রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন, সেখানে নোবেল তো তুচ্ছ!