বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু বাংলাদেশের

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ

প্রকাশিতঃ ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

খেলাধুলা ডেস্ক : নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ নিয়ে সতর্ক ছিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের প্রধান কোচ সাইফুল বারী টিটু। ২০২১ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হলেও একমাত্র নেপালকে হারাতে পারেনি। গোলশূন্য ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছিল। নেপালের এই বয়সভিত্তিক দলটির কোনো ম্যাচভিডিও দেখতে পারেননি কোচ। এক কথা অচেনা এক নেপালের বিপক্ষেই খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটা তাই জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল স্বাগতিক দলের। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা সে কাজটি সহজেই করতে পেরেছে। শুক্রবার রাতে কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে হারিয়েছে নেপালকে।

বাংলাদেশের জয়টা আরো বড়ও হতে পারতো। সুযোগ মিস হয়েছে, মিস হয়েছে পেনাল্টিও। তারপরও একটা সহজ জয়ে শুরু অবশ্যই কোচের স্বস্তি এনে দিয়েছে। ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে এ জয়টা জরুরীই ছিল আফঈদা-সাগরিকাদের।

বিকেলে ভারত ও ভুটানের ম্যাচটি ছিল একপেশে। ভারতের কাছে পাত্তাই পায়নি ভুটান। ১০ গোল খেয়ে মাঠ ছেড়েছেন ভুটানের মেয়েরা। তবে বাংলাদেশ জিতলেও নেপাল লড়াই করেছে সাধ্যমতো। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে এক পর্যায়ে ব্যবধান কমিয়ে ১-২ করেছিল। বাংলাদেশ ৩-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরই নেপালি মেয়েরা ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে।

গোটা তিনেক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর বাংলাদেশ গোলের খাতা খোলে ৪০ মিনিটে। নেপালের গোলরক্ষক গোলকিক নিলে বল চলে যায় স্বপ্নার কাছে। স্বপ্না হেডে বল নামিয়ে দিলে সেটা ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন সাগরিকা। সাগরিকাকে রোখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন নেপালের দুই ডিফেন্ডার। সামনে এগিয়ে এসেও আটকাতে পারেনি নেপালের গোলরক্ষক। সাগরিকা সহজেই গোল করলে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে।

দুই মিনিট পর আবার গোল বাংলাদেশের। এবার নেপালের জালে বল পাঠান মুনকি। ইতির বাড়ানো বল পেয়ে যান বক্সের ভেতরে থাকা মুনকি। ভুল করেননি তিনি। আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ব্যবধান ৩-০ করে বিরতি যেতে পারতো বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের বাড়িয়ে দেওয়া সময়ে পেনাল্টি পায় সাইফুল বারী টিটুর দল।

সাগরিকা বল নিয়ে বক্সে ঢুকলে তাকে ফেলে দেন নেপালের সিমরান রাই। অধিনায়ক আফঈদার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সাগরিকার নেয়া ফিরতি শট গোলরক্ষক সুজাতা তামাং ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন।

৫৩ মিনিটে ব্যবধান কমায় নেপাল। নেপালের অধিনায়ক সারাহ্ বজ্রছায়ার লব ধরে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন শুকরিয়া মিয়া। বাংলাদেশ গোলরক্ষক স্বর্ণা বাধাদিতে এগিয়ে এসেও ব্যর্থ হন। ৫৭ মিনিটে আকলিমা দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশ শিবির স্বস্তি এনে দেন সাগরিকা। ইতির পাস থেকে ব্যবধান ৩-১ করেন।

শেষ দিকে সাাাগরিকা ভালো একটা সুযোগ তৈরি করেছিলেন। বাম দিক দিয়ে তিনি ঢুকে নিজে চেষ্টা করেছিলেন গোল করার। বল চলে যায় নেপালের গোলরক্ষের হাতে।

বাংলাদেশ দল
স্বর্ণা রানী মন্ডল, আফঈদা খন্দকার, জয়নব বিবি রিতা, সুরমা জান্নাত, মুনকি আক্তার (নবিরন খাতুন) , স্বপ্না রানী, মোসাম্মৎ সাগরিকা, পূজা দাস (ঐশি) , উমেহলা মারমা (তৃষ্ণা রানী)(রুমা আক্তার), ইতি খাতুন, বন্যা খাতুন।