শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যায় ৬ জনের ফাঁসি বহাল

| প্রকাশিতঃ ১৫ জুন ২০১৬ | ২:০৬ অপরাহ্ন

ঢাকা: সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত থেকে মৃত্যুদ- পাওয়া ২২ আসামির মধ্যে ছয়জনের মৃত্যুদ- বহাল রাখেছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা করেন আদালত। বেলা ১টায় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণদেব নাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

বিচারিক আদালত থেকে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়। এছাড়া বাকি সাতজনকে খালাস দেয় আদালত। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুই আসামি কারাবন্দি অবস্থায় মারা যান। তাদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়।

বিচারিক আদালত থেকে যাবজ্জীবন পাওয়া ছয় আসামির মধ্যে একজনের যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয়। চারজনকে খালাস দেয়া হয়। বাকি একজন আপিল না করায় তার বিষয়ে আদালত কোনো আদেশ দেয়নি।

মৃত্যুদ- বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন- নরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দিপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, হাফিজ অরফে কানা হাফিজ, সোহাগ অরফে সরু, শহিদুল ইসলাম শিপু।

মৃত্যুদ-ের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দেয়া সাত আসামি হলেন- মোহাম্মদ আলী, সৈয়দ আহমদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া, ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম, মশিউর রহমান ওরফে মনু।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত যে সাত আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে তারা হলেন- আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, লোকমান হোসেন ওরফে বুলু, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন এবং দুলাল মিয়া।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুই আসামি ছোট রতন ও আল আমিন মারা গেছেন।

যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত একমাত্র নুরুল আমিনের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। চারজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- রাকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর, মনির। অহিদুল ইসলাম টিপুর বিষয়ে কোনো আদেশ দেয়নি।

আসামিদের মধ্যে যে নয়জন পলাতক রয়েছেন তারা হলেন- নুরুল ইসলাম দিপু, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, জাহাঙ্গীর, মশিউর রহমান ওরফে মশু ও খোকন এবং অহিদুল ইসলাম টিপ।

গত ১৪ জানুয়ারি থেকে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও ফৌজদারি বিবিধ আবেদনের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ৮ জুন তা শেষ হয়।

মামলার পূর্বাপর

২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে খুন হন ওমর ফারুক রতন নামে আরেকজন। এ ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই মতিউর রহমান টঙ্গী থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে এই মামলায় ওই বছরের ১০ জুলাই ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই বছরের ২৮ অক্টোবর ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ৩৪ জন এবং আসামিপক্ষে দুজন সাক্ষ্য দেন। এই মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ আসামিকে মৃত্যুদ- এবং ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়, খালাস পান অন্য দুজন। ২২ আসামির মধ্যে ১৪ জন আপিল ও জেল আপিল করেন।