বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১

‘আগামী ৪ বছরে গ্যাস সেক্টরে শতভাগ প্রিপেইড মিটার স্থাপন’

প্রকাশিতঃ ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫:১০ অপরাহ্ন


সিলেট : আগামী ৪ বছরের মধ্যে গ্যাস সেক্টরে শতভাগ প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি।

আজ শনিবার সকালে সিলেটে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গ্যাস মিটার স্থাপন করলে অপচয় কমে যাওয়াসহ অনেক সুবিধা রয়েছে। আমরা চাই, যতো দ্রুত সম্ভব প্রিপেইড মিটার স্থাপন শেষ করতে। এজন্য অনেক দিন ধরেই চাপ দিয়ে যাচ্ছি কোম্পানিগুলোকে। এখন বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ অনেকে অর্থায়ন করতে চায়। তারা প্রায় ৩০ লাখ মিটার কানেক্ট করবে।

নসরুল হামিদ বলেন, জালালাবাদের সার্ভিস দেখে আমি সন্তুষ্ট। তাদের কোন সিস্টম লস নেই, কোন অবৈধ সংযোগও নেই। ডাটা সেন্টার দেখলাম। চমৎকার মনে হয়েছে।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড পরিদর্শনকালে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব ও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী প্রধান কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের ডাটা সেন্টার উদ্বোধন করেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী সিলেটের গোলাপগঞ্জে অনুসন্ধান কূপ কৈলাশটিলা-৮ খনন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডে আরও ১.৬ টিসিএফ ((ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস পাওয়া যাবে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী চার মাসের মধ্যে খনন শেষ হলে সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে। কৈলাশটিলা ফিল্ডে আগে ৩ টিসিএফ মজুদ ছিল। অনুসন্ধান কূপ খনন করায় মজুদ আরও বাড়বে। দেশীয় ফিল্ড থেকে গ্যাস পেলে ৪ টাকায় পাওয়া যায়, একই পরিমাণ গ্যাস আমদানি করতে ৬০ টাকা খরচ হয়। মাত্র ২৩ শতাংশ গ্যাস আমদানি করতে না হলে অনেক সাশ্রয় হতো।
এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা উদ্যোগ নেবেন- আমরা সেই অপেক্ষায় বসে থাকি। মন্ত্রণালয় কোন প্রকল্প গ্রহণ করে না। আমরা চাই প্রত্যেকে সক্ষমতা দেখাক, আমরা তাদের সক্ষমতার দিকটি দেখতে চাই। যারা ভালো করবে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। সিলেট গ্যাস ফিল্ড এগিয়ে গেছে, আরও প্রকল্প নিচ্ছে। আমরা চাই অন্যরাও এগিয়ে আসুক।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, কৈলাশটিলায় এর আগে ৭টি কূপ খনন করা হয়েছে প্রতিটা কূপেই গ্যাস পাওয়া গেছে। ৩৫০০ মিটার খনন করা হবে ১ টিসিএফ এর উপরে গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

কৈলাশটিলা-৮ কূপের খনন কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি। ১২০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির এই কূপটি খনন করছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। সবচেয়ে আশার কথা হচ্ছে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে বিদ্যমান পাইপলাইন ও আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে ব্যবহার যোগ্য প্রসেস প্লান্ট রয়েছে।

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি ও বাপেক্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তিন দিনের সফরে সিলেট রয়েছেন। সফরকালে তিনি কয়েকটি গ্যাস ফিল্ড ও প্রসেস প্লান্ট পরিদর্শন, মডেল পেট্রোল পাম্প উদ্বোধন ও পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ উদ্বোধনসহ আরও কিছু কর্মসূচিতে যোগদান করবেন।