
গোপালগঞ্জ : না ফেরার দেশে চলে গেছেন ‘চাইম’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট তথা জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী খালিদ। সোমবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। রাতেই গ্রিন রোডের জামে মসজিদে এক দফা জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আজ মঙ্গলবার সকালে জন্মস্থানে আরেক দফা জানাজা শেষে খালিদকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। স্ত্রী-সন্তানকে ৮ হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রে রেখেই কবরবাসী হলেন তিনি। শেষ যাত্রায় পাশে পেলেন না তাদের কাউকেই।
সোমবার সন্ধ্যার পর খালিদের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে জানান সংগীতশিল্পী ও উপস্থাপক তানভীর তারেক। তিনি জানান, সন্ধ্যার পর খালিদ বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করেন। বাসা থেকে তাকে দ্রুত গ্রিন রোডের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৫৬ বছর বয়সি খালিদ যখন ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ছাড়েন, সেই মুহূর্তে তার একমাত্র সন্তান ছেলে জুয়াইফা আরিফ ছিলেন নিউইয়র্কের একটি স্কুলে। তখন সেখানে দিন। আরিফ ক্লাস করছিলেন। সেখান থেকেই বাবার মৃত্যুর খবর পান তিনি।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকেই তানভীর তারেকের মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দেন আরিফ। সেই ভিডিওতে তিনি সদ্য প্রয়াত বাবার জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, ‘আমার বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। আপনারা সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। তাকে মাফ করে দিয়েন।’
জানা গেছে, সন্তানের সঙ্গে খালিদের স্ত্রী শামীমা জামানও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাদের অপেক্ষা না করেই সোমবার রাতে খালিদের মরদেহবাহী গাড়ি ছুটে যায় গোপালগঞ্জে। মঙ্গলবার সকালে সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে হয়েছে গায়কের দাফন।
গোপালগঞ্জের ছেলে খালিদের গানের জগতে পদচারণা ১৯৮১ সাল থেকে। ১৯৮৩ সালে যোগ দেন জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘চাইম’-এ। মাঝে কিছুদিন স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে একা ফিরে আসেন ঢাকাতে। স্ত্রী-সন্তানের মায়া কাটিয়ে থাকতে শুরু করেন চেনা এই শহরে।
দীর্ঘ সংগীত জীবনে বহু শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন খালিদ। তার মধ্যে ‘সরলতার প্রতিমা’, ‘যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে’, ‘কোনো কারণেই ফেরানো গেল না তাকে’, ‘হয়নি যাবারও বেলা’, ‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে’, ‘তুমি নেই তাই’উল্লেখযোগ্য।