শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম কলেজে ফের ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

| প্রকাশিতঃ ১৯ জুন ২০১৬ | ৫:৫০ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ফের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে।

রোববার দুপুর ১টার দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়ে চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।

আহতরা হলেন- কণিক বড়ুয়া, কাদেমুল ইসলাম দুর্জয়, জামাল উদ্দিন ও খন্দকার নাইমুল আজম। এদের মধ্যে প্রথম চারজন মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী এবং শেষেরজন আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রায় তিন দশক শিবিরের দখলে থাকা চট্টগ্রাম কলেজ গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর নিয়ন্ত্রণ নেয় ছাত্রলীগ। এতে নেতৃত্ব দেয়া মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণির অনুসারীরা চট্টগ্রাম কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

গত শনিবার নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের নামে স্লোগান দিতে দিতে ক্যাম্পাসে ঢোকার সময় মহিউদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগের অপর পক্ষ বাধা দেয়। এতে সংঘর্ষে অন্তত তিন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়। এ ঘটনার জেরে রোববার দুপুরে আ জ ম নাছির অনুসারী ও নগর যুবলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ কলেজ ক্যাম্পাসে শোডাউন দিতে যায়। এসময় মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

দুই পক্ষই একে অপরকে ইটপাটকেল ছুড়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দেয়। সংঘর্ষ চলাকালে তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম কলেজের মূল ফটকের দুটি কাচ ভাঙচুর করা হয়। এসময় একাদশ শ্রেণিতে নতুন ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গোলজার মোড় হয়ে গণিবেকারী মোড়সহ জামালখানের আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুলিশ দুই কলেজে আটকা পড়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বের করে আনে।

চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ বলেন, শনিবারের সংঘর্ষের জের ধরে রোববারও ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দ শুনেছি, তবে কারা করেছে জানি না। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা এসে সংঘর্ঘে জড়াচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছি। এসব ঘটনা পুলিশ বন্ধ করতে না পারলে আমাদের কি করার আছে?