রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

গৃহকর কমাতে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সাংসদ আফসারুল

প্রকাশিতঃ বুধবার, অক্টোবর ২৫, ২০১৭, ৬:৩০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: বর্ধিত গৃহকর কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন।

বর্ধিত গৃহকর নিয়ে চট্টগ্রামের দুই শীর্ষ নেতার দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে একুশে পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ আফসারুল আমীন।

গৃহকর বাড়ানো নিয়ে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের বড় সমালোচনা আসছে নিজের দল থেকেই। আওয়ামী লীগের নগর কমিটির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গৃহকর বাড়ানোর চরম বিরোধিতা করে আসছেন।

পুনর্মূল্যায়ন শুরুর পর প্রায় দেড় বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে করদাতা সুরক্ষা পরিষদ। সাবেক দুই মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং মনজুর আলম চিঠি দিয়ে মেয়রকে বর্ধিত করের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বর্ধিত কর আদায়ে নিজের অবস্থানে অনড় মেয়র নাছির নগরবাসীকে আপিলে ‘সর্বোচ্চ ছাড়’ দেয়া হবে জানিয়ে আপিলের পথ দেখিয়েছেন।

সংসদ সদস্য ডা. আফসারুল আমীন বলেন, ‘ওনাদের দুইজনের বক্তব্য সংগঠনের জন্য শুভকর নয়। যেভাবে জল ঘোলা করা হচ্ছে…। আসল কথা হচ্ছে, মানুষকে অসহনীয় গৃহ কর থেকে মুক্তি দিতে হবে। মানুষ যেভাবে শান্ত থাকে, মানুষ যেভাবে সাধ্যমতো কর দিতে পারে সে জায়গায় মেয়রকে আসতে হবে।’

‘কর যদি ৭-৮ গুণ হয়ে থাকে, সেটা তো মানুষ মেনে নেবে না। আগে যে কর ধার্য্য ছিল, তার দেড় গুণ-দুই গুণ বাড়তে পারে। কিন্তু চার গুণ, ছয় গুণ, ১০ গুণ এটা মানুষ মেনে নেবে না। এটা সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া, তাদের অভিব্যক্তি। জনগণ এ বিষয়ে খুব উদ্বিগ্ন।’

সাবকে মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন বলেন, ‘এ অবস্থায় আমাদের দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কথাগুলো দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মানুষ আমাদের সংগঠনকে অনেক ভালোবাসে। সংগঠনের প্রতি মানুষের যে মমত্ববোধ ছিল সেটা যাতে ফিরে আসে- সে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য দলের যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন তাদের প্রতি অামার অনুরোধ থাকবে।’

‘মেয়র সাহেব যদি সহনীয় পর্যায়ে আনতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমি বলবো ওনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে সহায়তা চাইতে পারেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে সহায়তা চাইতে পারেন। কারণ আমরা কে এমপি, কে মেয়র, কে সাবেক মেয়র- এর চেয়ে আমাদের বড় পরিচয় হলো আমরা আওয়ামী লীগের কর্মী।’

আওয়ামী লীগের নগর কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আফসারুল আমীন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে আমাদের প্রাধান্য দিতে হবে। এবং এই প্রাধান্য যাতে বাস্তব রূপ পায়- সেজন্য আমাদের দলের সভানেত্রীর সহায়তা প্রয়োজন। এবং এই বিষয়ে অবশ্যই স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ আমরা কামনা করি।’

গৃহকর ইস্যুতে যারা ব্যক্তি বা সংগঠনের ব্যানারে নানামুখী অপপ্রচার চালাচ্ছেন, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি আইন অমান্যকারী হিসেবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হবে বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র নাছির।

এই প্রসঙ্গে আফসারুল বলেন, ‘এগুলো অন্য জিনিস। সাধারণ মানুষ আন্দোলন কখন করে? সাধারণ মানুষের আন্দোলন ভালো জিনিস। এতে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। সেটা রাজনীতির জন্য যেমন ভালো, তেমনি সমাজের জন্যও ভালো। কিন্তু আমরা যখন দেখি এই আন্দোলনের পেছনে কিছু মানুষ আছে.. যাদের আন্দোলন মানুষের উপকারিতার জন্য নয়। কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তির কিছু মনোনীত মানুষের যদি আন্দোলন হয়ে থাকে সেটার প্রেক্ষিতে মেয়রের বক্তব্য আইনের দিক থেকে কী হবে আমি জানি না। তবে সাধারণ মানুষ যদি আন্দোলন করে, তবে ওনাদের লক্ষ্য করে কিছু বলা মেয়রের ঠিক হবে না।’

গৃহকর বাড়ানো হবে না- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনের কঠিন পাশ করেছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির। কিন্তু এখন তিনি সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছেন।

এই বিষয়ে আফসারুল আমীনের মত, ‘নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে অনেক সময় মানুষ অনেক কথা বলেন। জাতীয় নির্বাচন বলেন, আর স্থানীয় নির্বাচন বলেন, অনেক কথার মধ্যে একটু বাড়তি কথা হতেই পারে। সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো যে মানুষ কেন পাঁচ-সাত-দশ গুণ বাড়তি কর দেবে?’

‘আগে যেটা কর ছিল তার দ্বিগুণ হতে পারে। এটা চারগুণ হতে পারে না। নির্বাচনের সময় কে কী বলেছে, কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে এটা করা যায় না- এটা বুঝলাম। কিন্তু চারগুণ—ছয় গুণ করবেন এটা তো মেনে নেয়া যায় না।’

নিয়ম-নীতি, আইন-কানুন যাই থাকুক না কেন সবকিছুকে বিচার-বিশ্লেষণ করে মানুষের সাধ্যের মধ্যে কর নিয়ে আসতে সিটি মেয়র নাছিরের প্রতি আহ্বান জানান চট্টগ্রাম-১০ আসনে সাংসদ ডা. আফসারুল আমীন।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাকর্মী আর কতজন? সাধারণ মানুষ তো লক্ষ লক্ষ। এই সাধারণ মানুষের কথাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের উদ্বেগ, উদ্বিগ্নতা দূর করতে হবে।’