চট্টগ্রাম: থানার দূরত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় নিয়ে স্থাপন করা হয় পুলিশ ফাঁড়ি। উদ্দেশ্যে থানা পুলিশের আগেই যাতে ঘটনাস্থলে পৌছানো যায়। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না, চট্টগ্রাম নগরীর তিনটি থানার মধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে চারটি পুলিশ ফাঁড়ি! এছাড়া তিনটি থানার অদূরেও স্থাপন করা হয়েছে আরো তিনটি পুলিশ ফাঁড়ি। একই স্থানে ও পাশাপাশি দূরত্বে থানা কম্পাউন্ড ও পুলিশ ফাঁড়ি হওয়ায় সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হচ্ছে পুলিশের কাজে। এছাড়া ব্যাহত হচ্ছে পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে।
চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানা ভবনটি চারতলা। তৃতীয় তলায় কার্যক্রম চলছে উত্তর কাট্টলী পুলিশ ফাঁড়ির। এ ফাঁড়িতে একজন এসআই ও দুইজন এএসআইসহ মোট ১৯জন পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। উত্তর কাট্টলী এলাকায় জায়গা না পাওয়ায় থানা ভবন থেকে পুলিশ ফাঁড়ি সরিয়ে নেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাহাড়তলী থানার ওসি রণজিৎ বড়–য়া।
তিনি বলেন, ‘থানা পুলিশের আগেই ঘটনাস্থলে পৌছানোর জন্য দূরবর্তী এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। কিন্তু উত্তর কাট্টলী এলাকায় ফাঁড়ির জন্য জমি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই থানা ভবন থেকে উত্তর কাট্টলী পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।’
চট্টগ্রামে পুলিশের আবাসন ও দাপ্তরিক অফিসের স্থান সংকটের এ একমাত্র চিত্র নয়, আরো রয়েছে।
পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চলছে কোতোয়ালী থানা কম্পাউন্ড থেকে। থানা ভবনের পাশে পুরনো একটি টিনের চালের ঘরে চলছে পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। এ ফাঁড়িতে উপপরিদর্শক পদবীর একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিনজন সহকারী উপপরিদর্শক ও ১৭জন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করছেন।
একটি কক্ষে চেয়ার ও টেবিল নিয়ে অফিস সাঁজিয়েছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ। পেছনের কক্ষে একটি ছোট খাট। পাশের একটি বড় কক্ষে পুলিশ সদস্যদের থাকার-বসার ব্যবস্থা। এটি হলো পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির চিত্র।
পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মহিবুর রহমান বলেন, ‘মেরিনার্স রোড়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি জায়গা বরাদ্দ সাপেক্ষে পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের প্রস্তাবনা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছি। ওই এলাকায় ফাঁড়ি করা গেলে পাথরঘাটা এলাকার ক্রাইম পয়েন্টগুলোকে পুরোপুরি নজরদারীতে আনা সম্ভব হবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, একই স্থানে ও পাশাপাশি থানা কম্পাউন্ড ও পুলিশ ফাঁড়ি হওয়ায় সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হচ্ছে পুলিশের কাজে। ফাঁড়ির কাজ করছে থানা। আর থানার কাজ করছে ফাঁড়ি। শুধু মাত্র জায়গার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। যুগ যুগ ধরে এ অবস্থা চললেও প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেই।
এছাড়া সদরঘাট থানা কম্পাউন্ডে কার্যক্রম চলছে সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির। পুরনো টিনশেডের একটি ঘরকে পুলিশ ফাঁড়ি বানিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। একজন এসআই ও দুইজন এএসআইসহ কয়েকজন কনস্টেবল এ ফাঁড়িতে কর্মরত আছেন।
এ প্রসঙ্গে সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির জায়গায় থানা করা হয়েছে। অন্য কোন স্থানে এখন জমি কেনার চেষ্টা চলছে। জায়গা পেলে থানা অথবা পুলিশ ফাঁড়ি নতুন জায়গায় চলে যাবে।’
শুধু তাই নয়, চট্টগ্রামের তিনটি থানার অদূরেও স্থাপন করা হয়েছে আরো তিনটি পুলিশ ফাঁড়ি। নগরীর ইপিজেড থানার অদূরেই রয়েছে চট্টগ্রাম ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির অবস্থান। বন্দর থানার অদূরে স্থাপন করা হয়েছে জেটি পুলিশ ফাঁড়ি। কোতোয়ালী থানার অদূরেই রয়েছে বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ মইনুল হাসান বলেন, ‘জমি না পাওয়ায় পৃথক পৃথক স্থানে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা যাচ্ছে না। থানার ভেতরে পুলিশ ফাঁড়ি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। পুলিশ ফাঁড়িগুলো অন্তত ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা চেষ্ঠা করছি।’