রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

গরিব বলে কি বিচার পাবো না ?

| প্রকাশিতঃ ২০ জুন ২০১৬ | ৭:৩১ অপরাহ্ন

tanuকুমিল্লা: মেয়ে হত্যার তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও হত্যাকারী শনাক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মা আনোয়ারা বেগম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, গরিব বলে কি আমরা বিচারও পাবো না। মেয়ে হত্যার পর তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তনুর মায়ের।

সোমবার দুপুরে নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ‘জাস্টিস ফর তনু’ এ ব্যানারে গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার আয়োজনে মানববন্ধনে তনুর মা এসব কথা বলেন। তনু হত্যার তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে তনুর মা আনোয়ারা বেগম ও ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে তনুর মা কান্নামাখা কণ্ঠে বলেন, ‘তনু হত্যার পর একের পর এক আমাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। তনুর বাবাকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা তো সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলছি না। আমরা তনু হত্যার বিচার চাইছি। তনুর খুনিদের না ধরে আমাদের পাহারা দিয়ে রাখা হচ্ছে। বাসার ডিশ লাইন কেটে দেয়া হয়েছে যেন তনুর সংবাদ দেখতে না পারি। কিছুদিন আগে তনুর লাশ উদ্ধারের স্থানে তনুর বাবা গিয়েছিল। সেখানে তাকে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বাসা থেকে তনুর ডায়েরি, অ্যালবাম সব নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার আর কোনো স্মৃতিচিহ্ন বাসায় নেই।’ মেয়ের হত্যাকারীদের শনাক্ত এবং তাদের বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান তনুর মা।

সমাবেশে আও বক্তব্য দেন গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার মুখপাত্র আবুল কাশেম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক পরেশ রঞ্জন কর, মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন বাবুল, লেখক ও প্রাবন্ধিক মোতাহার হোসেন, কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান প্রমুখ।

গত ২০ মার্চ তনুর লাশ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে কালভার্টের ২০ থেকে ৩০ গজ পশ্চিমে ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মো. ইয়ার হোসেন কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। দুই দফায় ময়নাতদন্তের পরও তনুর খুনি কারা তা শনাক্ত হয়নি।