
ঢাকা : তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকের পুরোধা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের কাছে ১১০০ কোটি টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি। সোনালী ব্যাংক ইতোমধ্যে ধার দেওয়ার জন্য সম্মতিও দিয়েছে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি পেলেই তারল্য সুবিধা দেবে তারা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি চেয়ে মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠিও দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এছাড়া স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) আওতায় আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকার তারল্য সুবিধা চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দেয় ইসলামী ব্যাংক।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় অন্য ব্যাংককে ধার দেওয়া ইসলামী ব্যাংক আজ গভীর সংকটে। ব্যাংকটিতে এত লুটপাট হয়েছে যে কোমর সোজা করে দাঁড়াতেও পারছে না। ইসলামী ব্যাংকে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, সম্প্রতি উচ্চমূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ব্যাংক খাত থেকে আমানত তোলার চাহিদা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ওপর তারল্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিন মাসের জন্য আন্তঃব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা পেতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে সোনালী ব্যাংকের অনুকূলে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করার অনুরোধ করছি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, শুধু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নয়, তারল্য সুবিধার জন্য অনেক ব্যাংকই আবেদন করেছে। তবে আন্তঃব্যাংক পদ্ধতিতে গ্যারান্টি চেয়ে কেবল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ চিঠি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয়নি।
জানা যায়, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির মালিকানা নেওয়ার পর থেকে নামে-বেনামে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে এ ব্যবসায়ী গ্রুপ। ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে টাকা বের করে নেওয়ার কারণে তীব্র তারল্য সংকটের মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআরআর ও এসএলআর রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকটির বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাবেও ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকিং খাত পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ ১২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।