
একুশে ডেস্ক : সংঘাত যেন থামছেই না ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যটিতে দাবি আদায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। গত মঙ্গলবার রাজ্যটির তিন জেলায় কারফিউ জারি করা হয়, রাজ্যজুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ১০০ জন আহত হন।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অলোক আস্থানা। তিনি দাবি করেছেন, ভারত মণিপুরে স্বল্প প্রশিক্ষিত পুলিশের হাতে বিপজ্জনক যুদ্ধাস্ত্র তুলে দিচ্ছে।
মণিপুরে সহিংসতা শুরু হয় গত বছরের ৩ মে। এরপর ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সেখানে শান্তি ফেরেনি, বরং বেড়েছে সহিংসতা। গত সপ্তাহ থেকে রাজ্যটিতে নতুন করে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত ১১ জন। রাজ্যটিতে মেইতেই এবং কুকি দুই সম্প্রদায়ের কাছে এখনও অস্ত্র রয়েছে। হামলার কাজে ড্রোন বোমা, আরপিজি ও আধুনিক অস্ত্রের জন্য ড্রোন ব্যবহারের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। বিক্ষোভ দমনে পুলিশের হস্তক্ষেপ সহিংসতার মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। গত মঙ্গলবারও বিক্ষোভরত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কর্তৃপক্ষ কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। এর জেরে সংঘাতে ছাত্রসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আহত হন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অলোক আস্থানা মঙ্গলবার জানান, ভারত মণিপুরে বিপজ্জনক কনভেনশনাল ওয়ার বা প্রথাগত যুদ্ধের অস্ত্র সে রাজ্যের স্বল্প প্রশিক্ষিত পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। ভারতের জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও এ তথ্য প্রচারিত হয়েছে দাবি করে অলোক আস্থানা বলেন, এই মারণাস্ত্র ইতোমধ্যে মণিপুর পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। পুলিশকে যুদ্ধাস্ত্র দেওয়া বিষয়ে গত সোমবার অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্নেলের লেখা প্রবন্ধ প্রকাশ করে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
আস্থানা বলছেন, মণিপুর পুলিশকে যে আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়া হয়েছে, সেটি ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটারের মধ্যম পাল্লার মেশিনগান (এমএমজি)। এটি কয়েক সেকেন্ডে ২৩৫টি পর্যন্ত গুলি চালাতে সক্ষম একটি মেশিনগান, যার পাল্লা দুই কিলোমিটার। সে কারণে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যদেরও এটা দেওয়া হয় না। এমএমজি এমন একটি অস্ত্র, যা দিয়ে সেনাবাহিনী প্রায় ১৫০ মিটার x ৭৫ মিটারের একটি দুর্গম বলয় তৈরি করতে পারে। এর অগ্নিবলয়ের মধ্যে কেউ পড়লে তার মৃত্যু নিশ্চিত। যেহেতু এই তিন অস্ত্র- এমএমজি, এলএমজি ও রাইফেল থেকে গুলি বেরোয়, ফলে এ তিনটিই প্রাণঘাতী অস্ত্র। কিন্তু এমএমজি থেকে বাড়তি যা বেরোয়, সেটি হলো বড় একটা অঞ্চলকে গ্রাস করার মতো আগুনের হলকা। সেনাবাহিনী এমএমজি এমন জায়গায় ব্যবহার করে, যেখানে শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করা যাবে।
কিছুটা হতাশ হয়ে সেনাবাহিনীর সাবেক এই কর্নেল লিখেছেন, যেহেতু অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি ইতোমধ্যে এ মারাত্মক অস্ত্র মণিপুর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে, ফলে এটা এখন স্পষ্ট যে কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি তাদের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ সদস্যদের মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে এমএমজি গুলি চালানো শুরু করার আগে আশা করব, শুভবুদ্ধির উদয় হবে।