রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য দিয়েছে জেএমবির ফুয়াদ

| প্রকাশিতঃ ২১ জুন ২০১৬ | ৯:৩৮ অপরাহ্ন

:: একুশে প্রতিবেদক ::

fuadচট্টগ্রাম: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ‘উচ্চপদস্থ সদস্য’ বুলবুল আহমেদ ওরফে ফুয়াদের কাছ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জেএমবির এই সদস্যকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশের এ ইউনিটটি এসব তথ্য পায়।

২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর ফুয়াদসহ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে একটি টিম। বাবুল আক্তারকে হত্যার কথা লিখে কারাগার থেকে পাঠানো ফুয়াদের একটি চিঠি সম্প্রতি গাইবান্ধার জেএমবি আস্তানা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপর ওই চিঠির বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলাকালীন সময়েই গত ৫ জুন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুনের ঘটনা ঘটে। এ বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য মূলত আদালতের আদেশে ফুয়াদকে রিমান্ডে আনা হয়েছিল।

পিবিআইয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলেন, ফুয়াদ জেএমবির একজন উচ্চপদস্থ সদস্য। তিনি কারাগার থেকে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের নির্দেশনা প্রদান ও জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন- এমন তথ্য আছে আমাদের কাছে। এসব তথ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হতে তাকে রিমান্ডে আনা হয়েছিল। কিন্তু রিমান্ডে সে জানিয়েছে, মিতু হত্যাকান্ডের বিষয়ে সে কিছুই জানে না। তবে তাকে ৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করে জেএমবি নিয়ে কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহম্মেদ বলেন, জেএমবি সদস্য ফুয়াদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সব সিএমপি কমিশনার স্যারকে জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারবো না।

এদিকে রিমান্ড শেষে জেমএবি সদস্য বুলবুল আহমেদ সরকার ওরফে ফুয়াদকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার পাঁচদিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করার পর মহানগর হাকিম আব্দুল কাদের এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্ত্তী জানান, গত বছরের ২৫ মে বাকলিয়া থানার কর্ণফুলী নদীর সৎসঙ্গ আশ্রম ঘাটে অজ্ঞাত একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১৪ জুন আদালতের নির্দেশে ফুয়াদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে মিতু হত্যাকান্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে সবগুলো সংস্থা মিলে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোন রহস্য উদঘাটনের খবর দিতে পারেনি।