চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে বর্ধিত গৃহকরের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেয়া এক শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মিহির কুমার রায় এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সাক্ষর করেন।
গৃহকরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের সংগঠন করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ আমির উদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশন অব এডুকেশন রিসার্চের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। হুমকিদাতারা নিজেদের মেয়র নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেয় বলে দাবি করেছিলেন আমির উদ্দিন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ নভেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আমির উদ্দিনকে হুমকি প্রদানের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একই সাথে এরসাথে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তপূর্বক চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এতে বলা হয়, অধ্যাপক আমির উদ্দিন গত রোববার দুপুরে তার ইনস্টিটিউটের কক্ষে পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ করার সময় ১০-১৫ জন যুবক তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ও তাকে হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনার পরপরই শিক্ষক সমিতির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক উপাচার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন। উপাচার্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন এবং ওই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
এদিকে হুমকির পরদিন সোমবার অধ্যাপক আমিরের নিয়োগ ‘অবৈধ দাবি’ করে তার অপসারণ চেয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু। সর্বশেষ মঙ্গলবার টিপুর অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীরা উপাচার্য কার্যালয়সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও একটি গাড়ি ভাংচুর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকও অবরোধ করে। এরপর মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে মিছিল-সমাবেশ করে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ও চবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন ও তার অনুসারীরা।