
ঢাকা: নতুন বছরেও সয়াবিন তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। সরকারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় শুল্ক-কর কমালেও সুবিধা পাচ্ছে না ভোক্তা। বরং নীতি সহায়তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা এখনো বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ বাড়ায়নি। রোজার আগে আরেক দফা দাম বাড়াতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রেখেছে তারা। খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়েও খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ২৮ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত বছরের শেষদিক থেকেই অস্থির ভোজ্যতেলের বাজার। নভেম্বরের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন বিক্রি হয় ১৮৫ টাকায়। শুল্ক-কর কমিয়েও বাজারে সামান্য কমে ভোজ্যতেলের দাম। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে বাজার থেকে উধাও হতে শুরু করে ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল।
ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, ৯ ডিসেম্বর লিটারে ৮ টাকা বাড়ানো হয়। খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয় লিটারপ্রতি ১৫৭ এবং বোতলজাত ১৭৫ টাকা। এরপর ১৬ ডিসেম্বর ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় রাখতে নতুন বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আমদানিতে শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম আয়কর শতভাগ অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। এরপরও বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোতলজাত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। খুচরা ব্যবসায়ী সোহেল জানান, কোম্পানিগুলো প্রতিদিন বোতলজাত তেলের সরবরাহ করছে না। তিনি জানান, সরবরাহ পেলে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৭২ টাকা দিয়ে কিনে ১৭৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তিন লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৫১৬ টাকায় কিনে ৫২৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়। খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে লিটারে ১৮২-১৮৫ টাকায়।
তিনি আরও জানান, কোম্পানিগুলো সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়িয়ে নিলেও বাজারে সরবরাহ বাড়ায়নি। রোজার আগে আরেক দফা দাম বাড়াতে এমন সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।
মুদি ব্যবসায়ী তুহিন বলেন, কোম্পানিগুলোর কাছে তেল যে নেই, তা বলা যাবে না। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রেখেছে। রোজার আগে আরেক দফা দাম বাড়াবে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাই সরকারকে চাপে ফেলে কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে নিয়েছে। তবে এখন যে তেল তারা মিল থেকে সরবরাহ করছে, তা আগের কম দামে কেনা।