রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে ছোট দলগুলোর কদর বাড়ছে

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৮ জানুয়ারী ২০২৫ | ৬:৪৩ অপরাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছোট দলগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নিজেদের জোটের পরিধি বাড়াতে ছোট দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোর পাশাপাশি ডান, বাম ও মধ্যপন্থি বিভিন্ন সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী কৌশল প্রণয়নে তৎপর বিএনপি। বিশেষ করে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে নজর দিয়েছে দলটি।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনী কৌশল প্রণয়নে ব্যস্ত। ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে তাদের নিয়ে বৃহত্তর নির্বাচনী ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছে দলটি। গতকাল জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বরিশালের চরমোনাইয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এটিই প্রথমবারের মতো জামায়াত নেতৃত্ব সরাসরি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক করলেন।

বিএনপিও ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে তৎপর। সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীমের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন তিনি। বিএনপির পক্ষ থেকে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য গঠন এবং আসন বণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায়ের আন্দোলনে যেসব দল রাজপথে ছিল, আমরা সবাইকে নিয়ে আগামী নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই।”

জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে জোট গঠনের ঘোষণা না দিলেও ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে। দলটির নেতারা বলছেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, হেফাজতে ইসলাম, জাকের পার্টিসহ বিভিন্ন ইসলামি দল ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মতবিনিময় চলছে।

খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল জলিল বলেন, “জুলাই বিপ্লবের ঐক্য ধরে রাখতে আমরা বিএনপিসহ সবার সঙ্গেই আলোচনা করছি। নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কথা হচ্ছে।”

বাম দলগুলোও নির্বাচনী ঐক্য গঠনে তৎপর। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বৃহত্তর নির্বাচনী জোটের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, “নির্বাচন সামনে রেখে নানা তৎপরতা চলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা যারা স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে ছিলাম, তারা সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছি।”

বিএনপি দেশব্যাপী নির্বাচনী তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। দলটি পুরনো জোট ও সমমনা দলগুলোর পাশাপাশি বাম দলীয় ঐক্যজোট ও ইসলামি দলগুলোকেও কাছে টানার চেষ্টা করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে বিজয়ী হলে সমমনা দলগুলো নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ এবং ‘দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশ ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশের মাদরাসা ও কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর এসব সংগঠনের প্রভাব ব্যাপক। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয়েই এই প্রভাব কাজে লাগাতে চাইছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও জোট গঠনের এই তৎপরতা আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও গতিশীল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।