শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর আগে কি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে?

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ | ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন


ক্ষমতার পালাবদলের পর বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ কমেছে এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট ছাড়ের পাশাপাশি সরবরাহ সংকট কাটাতে দাম বাড়ানো হলেও রমজানের আগে আবারো দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীরা।

খুচরা পর্যায়ে কমিশন কমিয়ে দেয়া এবং বাকিতে তেল বিক্রি বন্ধ করায় পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমেছে। তবে, কাঁচাবাজারগুলোতে তেলের যথেষ্ট সরবরাহ দেখা গেছে। অন্যদিকে, অনেক মুদি দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যদিও সুপারশপগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে গুঞ্জন, রমজানের আগেই দাম বাড়াতে চান ব্যবাসয়ীরা, তাই ডিলাররা বাকিতে তেল দেয়া বন্ধ করেছেন।

২০২৪ সালেও রোজা শুরুর আগে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর দাবি উঠেছিল। সে সময় সরকার মূল্য সমন্বয় করে। এরপর ‍জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবরে আমদানি পর্যায়ে ভোজ্য তেলের মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ৫ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহার করে সরকার।

সর্বশেষ ৯ ডিসেম্বর ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো হয়। তখন খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলের সয়াবিন তেলের দাম সর্বোচ্চ ৮ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ১৭৫ টাকা।

মাসখানেকের মাথায় জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আবার সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন। ব্যবসায়ীরা লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে ১১ টাকা বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি-তর্ক চলছে।

সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দিনের বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের মতামত চেয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনষ্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মুস্তাফা হায়দার বলেন, সয়াবিন তেলের দাম সময়ে সময়ে বৈশ্বিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ খরচের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা।

তবে, সরকার রোজায় পণ্যটির দাম বাড়াতে চাইছে না। সেজন্য রোজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভ্যাট ছাড় অব্যাহত রেখেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান বলেন, দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। বর্তমান দরেই বিক্রি করতে হবে।

বাজারে গুঞ্জন উঠেছে, রোজার আগেই রান্নার উপকরণটির দাম আরেক দফা বাড়তে পারে। সেজন্য ডিলাররা মজুদ শুরু করেছেন এবং মিলাররা বাকি দেয়া বন্ধ করেছেন।

আমদানিকারক থেকে উৎপাদনকারী, ডিলার ও খুচরা পর্যয়ের কোন ধাপে বিক্রয় মূল্য কত হবে তা সরকার ঠিক করে দিলেও, কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, একসঙ্গে বেশি নিলে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ কমে যায়। বারবার আনলে মুনাফা কমে যায়।

ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, তেল সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।

গত বছর ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ অনেক ব্যবসায়ী এখন দৃশ্যপটে নেই। ভোজ্য তেল ব্যবসায় জড়িত এস আলম গ্রুপ ও বসুন্ধরা গ্রুপের সয়াবিন তেল বাজারে কমেছে।

তবে, মোহাম্মদ মুস্তাফা হায়দার বলেন, অন্যদের সরবরাহ বেড়েছে, তাই তেল নিয়ে কোনো ঘাটতি নেই।

সব পর্যায়ে অনলাইনে তথ্য থাকায় মিলারদের পক্ষ থেকে কোনো সরবরাহজনিত সমস্য নেই বলে তার ভাষ্য।

ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রত্যেক ডিলারদের কতটা দেওয়া হয় তার একটি তো হিসাব থাকে। চাহিদা বাড়ালেই যে দেওয়া যাবে তাও নয়। রেগুলার তো পাচ্ছে।