
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছনখোলা গ্রামে দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে এর প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ তারেক হোছাইন, এওচিয়া ও কাঞ্চনা জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারি যথাক্রমে আবু বক্কর, ফারুক হোসাইন, মাওলানা আবু তাহের এবং জায়েদ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সোমবার (৪ মার্চ) রাতের হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত। তারা দাবি করেন, এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা গ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসকবলিত। এওচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক ছনখোলা গ্রামের পাহাড়, গাছ ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে নিতে একাধিকবার সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এলাকার মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে বয়কট করে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতার কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনি। বিগত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর মানিক এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করলেও তার বাহিনী এখনো সক্রিয় রয়েছে। মানিকের ভাই হারুন ও মমতাজের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই সন্ত্রাসীরা এখনো নানা অপকর্মে জড়িত।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গতরাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী দুঃশাসনে নির্যাতিত ও ব্যবসায়ী নেজাম উদ্দিন ও আবু ছালেককে বিচারের কথা বলে ডেকে আনা হয়। এরপর মাইকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ডাকাত আখ্যা দিয়ে গণপিটুনির নামে চেয়ারম্যান মানিকের নির্দেশে তার ভাইদের পরিকল্পনায় কুপিয়ে দুজনকে হত্যা করা হয়, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে ২০১৬ সালে মানিক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কাঞ্চনার বশরকে ছনখোলাতে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে চিহ্নিত খুনিদের গ্রেফতার, ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান। তারা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না করে প্রকৃত হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতকানিয়া উপজেলার প্রচার সম্পাদক আইয়ুব আলী।