রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

‘মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে’

একুশে ডেস্ক | প্রকাশিতঃ ৫ মার্চ ২০২৫ | ১২:২৮ অপরাহ্ন


মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মূলত হাসিনা সরকারপ্রধান থাকাকালীন জোরপূর্বক গুমের ঘটনা তদারকি করার পাশাপাশি গত বছরের জুলাই ও আগস্টে বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যা চালানোর জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, ‘বিচার হবে। শুধু শেখ হাসিনা নয়, তার সঙ্গে জড়িত সব লোক তথা পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে তার সহযোগীদেরও বিচার করা হবে।’

সম্প্রতি আয়না ঘর দর্শনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, আয়না ঘরগুলো যখন আপনি নিজের চোখে দেখবেন এবং নির্যাতিতদের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে, কতটা ভয়ানক মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। আয়না ঘরগুলো সেনাবাহিনীর আওতাধীন। তাই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।’

‘তবে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, এগুলো জাদুঘরে রূপান্তরিত করার। যাতে জনগণ সেখানে আসতে পারে এবং ইতিহাস জানতে পারে’, যোগ করেন ড. ইউনূস।

হাসিনার বিরুদ্ধে তার নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশকে ব্যবহার করে শত শত নেতাকর্মীকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার তদারকি করার অভিযোগ রয়েছে। হাসিনা, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং প্রায় ৮০০ গোপন কারাগারের নেটওয়ার্ক তদারকি করার দায়ে অভিযুক্তদের অনেকেই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘অভিযুক্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত লোকের সংখ্যা এবং পরিসর (বেশি হওয়ায়) কাজ করতে সময় লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুরো সরকার এর সঙ্গে জড়িত ছিল। সুতরাং এটা বের করা কঠিন যে- কারা সত্যিই এবং উৎসাহের সঙ্গে এই অপরাধগুলো করছিল, আর কারা উচ্চপদস্থদের আদেশের অধীনে এসব কাজ করেছিল এবং কারা পুরোপুরি এসব অপরাধের সমর্থনকারী না হলেও এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গিয়েছিল।’

শেখ হাসিনার বিচারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশে শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই।তাই এখন প্রশ্ন হলো, আমরা তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পারব কি না। এটি নির্ভর করছে ভারতের ওপর এবং আন্তর্জাতিক আইনের নির্দেশনার ওপর।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তারা কোনো সাড়া দেননি। যাই হোক, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসুক আর না আসুক, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত বছরের আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। নাটকীয় এই পটপরিবর্তনের পর একে একে বের হয়ে আসছে সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ নানা চিত্র।

মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমেধ্যেই দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বাংলাদেশ।