
হাইকোর্ট আজ এক যুগান্তকারী রায়ে বলেছেন, এমবিবিএস (MBBS) এবং বিডিএস (BDS) ডিগ্রিপ্রাপ্ত চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। ডিপ্লোমাধারী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (‘ডিএমএফ’ ডিগ্রিধারী) নামের পূর্বে ব্যবহৃত পদবি (প্রিফিক্স) নির্ধারণে সরকারকে ছয় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার (১৪ মার্চ) পৃথক দুটি রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই রায় দেন।
রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “এখন থেকে এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে, আজকের আগ পর্যন্ত যারা এই পদবি ব্যবহার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবে না। কিন্তু, আজকের পর থেকে কেউ এই পদবি ব্যবহার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
২০১০ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং এর সভাপতি ও সেক্রেটারি পৃথক দুটি রিট দায়ের করেন। রিটে আইনের ২৯ ধারাকে বৈষম্যমূলক দাবি করা হয়।
এই আইনের ২৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত মেডিকেল বা ডেন্টাল চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ এমন কোনো নাম, পদবি, বিবরণ ব্যবহার করতে পারবেন না, যাতে মনে হতে পারে যে তার অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া, এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। ২৯ (২) ধারায় বলা হয়েছে, এই বিধান লঙ্ঘন করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন এবং মো. সাইদুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম।
আদালত দুটি রিটের মধ্যে প্রথম রিটটি খারিজ করে দেন এবং দ্বিতীয় রিটটি নিষ্পত্তি করে রায় দেন।