শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প-খামেনির পাল্টাপাল্টি হুমকি, উত্তপ্ত তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিতঃ ১ এপ্রিল ২০২৫ | ১০:০৫ পূর্বাহ্ন


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন চুক্তিতে রাজি না হলে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেকোনো মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই পাল্টাপাল্টি হুমকিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হুমকি দেন। ইরান গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যদি তারা (ইরান) কোনো চুক্তি না করে, তাহলে বোমাবর্ষণ হবে। এবার এমন বোমাবর্ষণ হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।” শুধু তাই নয়, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্প আরও জানান, চুক্তি না হলে চার বছর আগের মতো কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হতে পারে।

ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সোমবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায় তবে তার উপযুক্ত ও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের শত্রুতা সব সময়ই ছিল। তারা আমাদের আক্রমণের হুমকি দেয়… যদি তারা কোনো দুষ্কর্ম করে, তবে তাদের অবশ্যই শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।”

ইরান জানিয়েছে, সর্বোচ্চ চাপ এবং সামরিক হুমকির মুখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে না। তবে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত। ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার খামেনির উদ্ধৃতি দিয়ে এই নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে ইরান সব সময় পরোক্ষ আলোচনায় ছিল, এখনো আছে।” সর্বোচ্চ নেতা খামেনিও পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়েছেন।

জানা গেছে, ট্রাম্পের একটি চিঠির জবাবে ইরান ওমানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে একটি বার্তা পাঠিয়েছে, যেখানে তেহরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। এদিকে, ট্রাম্পের হুমকির পর ইরান তেহরানে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। সুইজারল্যান্ড ইরানে মার্কিন স্বার্থ দেখাশোনা করে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দিতে তেহরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের হুমকিকে “আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার মূলনীতির মর্মান্তিক অবমাননা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি টুইটারে বলেন, “সহিংসতা সহিংসতার জন্ম দেয়, শান্তি শান্তির জন্ম দেয়। যুক্তরাষ্ট্র পথ বেছে নিতে পারে এবং পরিণতি মেনে নিতে পারে।”

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বের ছয় শক্তিধর দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ওই চুক্তির বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। ট্রাম্পের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।