শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

গাজায় ফুরিয়েছে সব খাবার, অনাহারের ঝুঁকিতে ২০ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিতঃ ২৬ এপ্রিল ২০২৫ | ৩:১৯ অপরাহ্ন


অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাদ্য মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। শুক্রবার সংস্থাটি জানায়, ইসরায়েলের সাত সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আরোপিত বাধার কারণে উপত্যকায় কোনো মানবিক সাহায্য প্রবেশ করতে না পারায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ডব্লিউএফপি এক ঘোষণায় বলেছে, তাদের কাছে অবশিষ্ট যা সরবরাহ ছিল, তা গরম খাবার তৈরির রান্নাঘরগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা আশঙ্কা করছে, এই খাবারও কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাবে।

জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের এই সংস্থা।

ঘোষণায় বলা হয়, “গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি আবারও এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানুষ পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় হারিয়ে ফেলছে এবং সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির সময় অর্জিত ভঙ্গুর সাফল্যগুলোও মিলিয়ে গেছে।”

কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজায় চালু থাকা রান্নাঘরগুলোই ছিল খাদ্য সহায়তার একমাত্র ধারাবাহিক উৎস। তবে এই রান্নাঘরগুলোও জনসংখ্যার মাত্র এক-চতুর্থাংশের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারছিল।

ডব্লিউএফপি ২৫টি রুটির কারখানাকেও সহায়তা দিয়ে আসছিল, কিন্তু গমের আটা ও রান্নার জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় সেগুলোও গত ৩১ মার্চ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া, পরিবারগুলোতে বিতরণ করা দুই সপ্তাহের রেশনের খাদ্য প্যাকেজও ওই সপ্তাহেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।

সব প্রধান সীমান্ত পয়েন্ট বন্ধ থাকায় সাত সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গাজায় কোনো মানবিক বা বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ করতে পারেনি।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার মানবিক সহায়তার জন্য আবেদন করে আসছেন। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গাজায় এইবারের অবরোধ সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং এটি সেখানকার ভঙ্গুর বাজার ও খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বছরের শুরুর যুদ্ধবিরতির সময়ের তুলনায় বর্তমানে খাদ্যপণ্যের দাম ১,৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি অপুষ্টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে ছোট শিশু, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী, বয়স্ক এবং অন্যান্য দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, এরই মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি খাদ্য সহায়তা গাজার সীমান্তে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় দশ লাখ মানুষকে চার মাস পর্যন্ত খাওয়ানো সম্ভব। সীমান্ত পুনরায় খোলা হলেই এই সহায়তা গাজায় প্রবেশ করানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে ডব্লিউএফপি ও তার অংশীদাররা।

সংস্থাটি বলেছে, “ডব্লিউএফপি সকল পক্ষকে বেসামরিক নাগরিকদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং অবিলম্বে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।”

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস গাজা এবং পশ্চিম তীর উভয়েরই অবনতিশীল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ মাসে গাজার ২২ লাখ ফিলিস্তিনির জীবন যুদ্ধ, মানবিক সহায়তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ এবং প্রায় সব প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর, বিশেষ করে গত সপ্তাহে, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে, যার ফলে বহু বেসামরিক লোক নিহত এবং অবশিষ্ট অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস আরও উল্লেখ করেছে, “খাদ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের অভাবে সাধারণ মানুষ ক্রমশ মরিয়া হয়ে উঠছে, সামাজিক অস্থিরতা আরও গভীর হচ্ছে এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধের খবরও ঘন ঘন পাওয়া যাচ্ছে।”