শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বাঁশখালীতে এস আলমের ১০০১ কোটি টাকার ৫৬৩ একর জমি জব্দের আদেশ

দুদকের আবেদনে এস আলমের সম্পদ জব্দ অব্যাহত
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৭ এপ্রিল ২০২৫ | ৮:১৮ অপরাহ্ন


এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৫৬৩.৫৭ একর জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব জমির দলিল মূল্য এক হাজার এক কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

রোববার (২৭ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদক আশঙ্কা করছে, অভিযুক্তরা তাদের স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান চলাকালে সম্পদ হস্তান্তর হয়ে গেলে তা পরে উদ্ধার করা কঠিন হবে উল্লেখ করে এসব জমি জব্দের আবেদন জানায় দুদক।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত, যা চীনা কোম্পানির সঙ্গে যৌথ মালিকানাধীন। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশেও এস আলমের জমি রয়েছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এস আলম গ্রুপ এবং এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে চলমান দুদকের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে এর আগেও বিভিন্ন সম্পদ অবরুদ্ধ বা জব্দ করা হয়েছে।

এর মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ২৩ এপ্রিল, ঢাকা ও চট্টগ্রামে এস আলমের ১৫৯.১৫ একর জমি (বাজার মূল্য প্রায় ৪০৭ কোটি টাকা) জব্দের আদেশ দেন আদালত। তার আগে ১৭ এপ্রিল, তার এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা ১ হাজার ৩৬০টি ব্যাংক হিসাব (স্থিতি প্রায় ২ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা) অবরুদ্ধ করার আদেশ আসে।

এছাড়াও গত কয়েক মাসে দফায় দফায় এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের হাজার হাজার কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং শত শত বিঘা জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের অনুসন্ধান এখনও চলমান রয়েছে।