রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ, বিব্রত বিএনপি

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২ মে ২০২৫ | ৯:৪৭ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে রাতের আঁধারে গাড়ি ধাওয়া করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে পরিচালিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এ.এস.এম ইব্রাহিম মানিকের নেতৃত্বে এই চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইব্রাহিম মানিকের নেতৃত্বে ৬-৭ জনের একটি সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রতিদিন রাত ১২টার পর কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে মহাসড়কের হারবাং থেকে বানিয়ারছড়া অংশে চলাচলকারী বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি ধাওয়া করে এবং প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায় করে। এই চক্রে মানিকের অন্যতম সহযোগী হিসেবে মো. বেলাল নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যিনি স্থানীয় নন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, মানিক ও বেলালের সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হয়রানির ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত।

সম্প্রতি মানিক ও বেলালের চাঁদাবাজির বিষয়ে এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে ফোনালাপের একটি রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই রেকর্ডে ভুক্তভোগীকে বলতে শোনা যায়, মানিক ও বেলালের নেতৃত্বে ১০-১২ জন ৬-৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে তার লাকড়ির গাড়ি ধাওয়া করে হারবাং ইনানী রেস্টুরেন্টের মাঠে নিয়ে যায়। পরে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি ইব্রাহিম মানিক জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নেই।” এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সরাসরি দেখা করতে বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

এদিকে, ছাত্রদল সভাপতির এসব কর্মকাণ্ডে হারবাং ইউনিয়ন বিএনপি বিব্রত বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা জানান, সরকার পতনের পর থেকে মানিকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটটি হারবাংয়ে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছে। ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা কর্ণপাত করছে না, বরং দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

হারবাং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেল সিকদার বলেন, “ছাত্রদল সভাপতি মানিকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে বলে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। তাদের সাবধান করা হলেও তারা ইউনিয়ন বিএনপিকে পরোয়া না করে ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রদলে তার চেয়ে খারাপ কোনো ছেলে আছে বলে আমার জানা নেই। তার এমন কর্মকাণ্ডে আমরা ইউনিয়ন বিএনপি খুব বেশি বিব্রত।”

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, “ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের (সম্ভবত সভাপতির কর্মকাণ্ডের কথা বোঝানো হয়েছে) এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”

হারবাং ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মো. বাবুলও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, “ছাত্রদলের সভাপতি ইব্রাহিম মানিকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট সরকার পতনের পর থেকে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের জানালে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।”

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে অবগত আছেন জানিয়ে বলেন, তিনি অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।