রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

পাহাড়ে বিজিবির মানবিকতা: ৫০ টন খাদ্যশস্যে স্বস্তি ২৫০০ পরিবারে

বিজিবির খাদ্যশস্য পেয়ে আপ্লুত বাঘাইছড়ির মানুষ
জাকির হোসেন | প্রকাশিতঃ ১৩ মে ২০২৫ | ৬:৫০ অপরাহ্ন


পার্বত্য রাঙ্গামাটির দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলায় শান্তি ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সরকারের বিশেষ উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল থেকে সেখানে বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত আড়াই হাজার পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে ৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণের এক মানবিক কার্যক্রম শুরু করেছে বাহিনীটি। এই মানবিক সহায়তা প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বয়ে এনেছে স্বস্তির বার্তা।

মঙ্গলবার (১৩ মে) সকাল ১১টায় স্বরাষ্ট্র, কৃষি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন (৫৪ বিজিবি) এবং মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি) যৌথভাবে এই মানবিক কার্যক্রমের সূচনা করে। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে (মঙ্গল ও বুধবার) বাঘাইছড়ি উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ১১টি নির্ধারিত স্থানে এই খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

কর্মসূচির প্রথম দিনে বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন সদর ও দুর্গম মাচালং বাজারে এবং মারিশ্যা ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় মারিশ্যা, রূপকারী, খেদারমারা, আমতলী ও সরোয়ারতলী ইউনিয়ন পরিষদসহ মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়। চারিদিকে তখন বিরাজ করছিল এক উৎসবমুখর ও আন্তরিক পরিবেশ।

বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন সদরে আয়োজিত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের তদারকি করেন চট্টগ্রাম রিজিয়ন সদর দপ্তরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মো. শাহরিয়ার ইকবাল। অন্যদিকে, মাচালং বাজারের বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বিজিবি খাগড়াছড়ি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম। এসময় বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো. মহিউদ্দিন ফারুকী এবং মারিশ্যা ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর নোমান আল ফারুকসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবির এই খাদ্য সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা। সাজেকের বাসিন্দা যিশু চাকমা বলেন, “আমরা ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে অনেক কষ্ট করে জীবন চালাই। বিজিবি স্যারদের এই খাদ্যশস্য পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। তারা যে আমাদের কথা ভেবেছেন, এতেই আমরা কৃতজ্ঞ। আশা করি ভবিষ্যতেও এমন সাহায্য পাব।”

আরেক সুবিধাভোগী মিতালি চাকমা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। এই সময়ে এমন খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় পরিবার নিয়ে কিছুদিন ভালোভাবে চলতে পারবো। স্যারদের অনেক ধন্যবাদ।”

খাদ্যশস্য বিতরণ শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মো. শাহরিয়ার ইকবাল বলেন, “গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সাজেকে অগ্নিকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন এবং অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসেই তারা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আরও কিছু করার কথা ভাবেন। তারই ফলস্বরূপ আজকের এই খাদ্যশস্য বিতরণ। দেশের সীমান্ত রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিজিবি সবসময়ই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে আসছে। এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। ভবিষ্যতেও বিজিবির এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

এই মহতী উদ্যোগ বাঘাইছড়ির পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।